সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন চিত্রনায়ক বাপ্পী

ঢাকাই সিনেমার সুদর্শন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। গেল ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের চলচ্চিত্র ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২।’

এতে নায়কের সঙ্গী ছিলেন ঢালিউড কুইন খ্যাত অপু বিশ্বাস। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই হলমালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। সিনেমাটি ঘিরে এরইমধ্যে ভক্তদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন নায়ক।

তবে ধর্মীয় বেশ কয়েকটি চলমান ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এবার কথা বললেন তিনি। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) তিনি ছবিসহ একটি পোস্ট দেন।

দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে চিত্রনায়ক বাপ্পি লেখেন, ‘ধর্মীয় কোনো ইস্যুতে আগ বাড়িয়ে নাক গলানো আমার কখনো ভালো লাগে না। তবে অশান্ত এই মনটাকে শান্ত করতে কিছু কথা না বলে পারছি না।

‘ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার। জন্মসূত্রে পাওয়া নিজের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস যেমন ব্যক্তিগত ব্যাপার, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ধর্মও ঠিক তেমনি তার তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

চলমান ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে চলমান বেশ কয়েকটি ইস্যু বারবার আমার মনকে অশান্ত করে তুলছে। টিপকাণ্ড, বিজ্ঞান স্যারের কারাবাস, হিজাব পরায় শিক্ষিকা দ্বারা ছাত্রীদের নির্যাতন: এ সবের শেষ কোথায়? কিংবা শুরুটাই বা কীভাবে?

‘অন্যের ধর্মের প্রতি এতোটাই ব্যক্তিগত আক্রোশ নিয়ে এরা বসবাস করছে কি করে? এমনও তো নয় যে, এসব কোনো পড়ালেখা না জানা, শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা কোনো কুসংস্কারাছন্ন অন্ধকার জগতের মানুষেরা করছে। আধুনিক এই যুগে, যখন সবাই নিজ কাজ করে সময় পায় না, তখন তারা অন্যের ধর্ম নিয়ে ভাবার সময়ই বা পায় কখন?’

ধর্মের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম মানেই শান্তি, সনাতন ধর্ম কখনো ঘৃণা শেখায়নি, বৌদ্ধ ধর্মেতো জীব হত্যাই মহাপাপ, আর যিশু নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন শান্তি বাস্তবায়নে। তাহলে আমরা কেনো শান্ত থাকতে পারছি না? আমরা কেনো নিজের ধর্মের বার্তা শুনতে পাচ্ছি না? আমরা কেনো এতো আক্রোশ নিয়ে বসে আছি।’

বাবা-মায়েদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই চিত্রনায়ক লেখেন, ‘বাবা-মায়েদের কাছে অনুরোধ, সন্তানকে নিজেদের ধর্ম শেখানোর পাশাপাশি, অন্যের ধর্মের প্রতি সহনশীল হতে শেখান। ছোটবেলা থেকেই যদি ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেন, তবে ভবিষ্যৎ হবে সুন্দর। বাংলাদেশকে ধর্মের মাপকাঠিতে ভিন্ন হতে দেখতে চাই না। বাংলাদেশতো ভালোবাসার দেশ। মানুষগুলোর মন হোক ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *