রমজানে ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে জিলাপি অন্যতম। সব শ্রেণির মানুষ ইফতারে জিলাপি পছন্দ করেন। তবে তা তৈরি কঠিন হওয়ায় বরাবরই রেস্টুরেন্টের ওপর ভরসা করতে হয়। তাই তারকা হোটেল থেকে পাড়া-মহল্লার হোটেলের সামনে বিক্রি হয় হরেক রকমের জিলাপি।
ভেতরে মিষ্টি রসে টইটম্বুর, বাইরে মচমচে—এমন জিলাপির প্যাঁচ, আকার ও স্বাদের ওপর ভিত্তি করে এর দামেও ভিন্নতা এসেছে। জানা গেছে, এক কেজি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়।
গরুর খামার ও বেকারি প্রতিষ্ঠান সাদিক অ্যাগ্রো রোজার মাসে বাজারে এই দামি জিলাপি আনার পর থেকে অনেকের প্রশ্ন: কী এমন আছে এই খাবারে, যার কারণে এতো দাম?
সাদিক অ্যাগ্রো এই জিলাপির নাম রেখেছে ‘পার্মেসন চিজ জিলাপি’।
এ ব্যাপারে সাদিক অ্যাগ্রো কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, এ জিলাপিতে ব্যবহার করা হয় ইতালি থেকে আনা বিখ্যাত পার্মেসন চিজ, যার কেজি প্রায় তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া এই জিলাপিতে ব্যবহার হয় জাফরান, ঘি, চাউলের গুড়া, বেসন, ময়দা এবং ইস্ট। এগুলো দিয়ে জিলাপির খামির তৈরি করা হয়। খামির তৈরির তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ভাজা হয় জিলাপি।
জিলাপি যে তেলে ভাজা হয় তাতে মেশানো হয় ঘি। এ ছাড়া জিলাপি ভেজে যে চিনির রসের মধ্যে ডোবানো হয়, সেই রসেও মেশানো হয় ঘি। আর এই ঘি তৈরি হয় সাদিক অ্যাগ্রোর নিজেদের খামারের গরুর দুধ থেকে।
জিলাপি ভেজে রসে ডুবিয়ে পরবর্তীতে প্যাকেট করার সময় এই জিলাপির উপর দিয়ে আবার পার্মেসন চিজের গুড়া ছিটিয়ে দেয়া হয়। এই জিলাপি মুখে দিতেই চিজের একটা সুন্দর ঘ্রাণ আসে।
সাদিক অ্যাগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ এমরান বলেন, ‘সাদিক অ্যাগ্রো মূলত বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের হায়েস্ট ক্যাটাগরি মাংস সরবরাহ করে। দুই বছর আগে আমরা চিন্তা করলাম, পাশাপাশি খাবারের ব্যবসা করা যায় কি না। গত দুই বছরে আমরা রেস্টুরেন্ট করেছি, বেকারি করেছি। শুরু থেকে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সেইফ অ্যান্ড সিকিউর খাবার মানুষকে খাওয়ানো।’
জিলাপি তৈরির পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে শাহ এমরান বলেন, ‘দেশে সবাই গতানুগতিক জিলাপি তৈরি করছে। অথচ আমাদের অনেক বিদেশি গেস্ট আছেন, যারা পার্মেসন চিজ খুব পছন্দ করেন। তারা বিদেশে এই চিজ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরি করেন। আমাদের মাথায় আসলো, এই চিজ দিয়ে আমরা জিলাপি তৈরি করতে পারি কি না। আমাদের যিনি শেফ আছেন, তার সঙ্গে কথা বললাম, এটা তৈরি করা যায় কি না। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ তৈরি করা যায়।’
প্রথমে সুগার-ফ্রি জিলাপি তৈরি করা হলেও এখন সেটা হয় না। বাজারে সুগার-ফ্রি মিষ্টির ঘাটতির কারণে সাধারণ চিনি দিয়েই তৈরি হচ্ছে পার্মেসন চিজ জিলাপি।
শাহ এমরান বলেন, প্রথম দিকে আমরা চেয়েছিলাম এই জিলাপি সুগার-ফ্রি তৈরি করতে। প্রথম দুই দিন বাজার থেকে সুগার-ফ্রি মিষ্টি ৫০ কেজি কিনেছিলাম। ওই দুই দিন পার্মেসন চিজ জিলাপি সুগার-ফ্রি তৈরি করেছিলাম। দুই দিন পরে বাজারে আমরা এই সুগার ফ্রি মিষ্টি আর পাচ্ছিলাম না। এখন আমরা এটা আবার নরমাল চিনি দিয়েই করছি।
‘ইতালিয়ান পার্মেসন চিজ বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটার কেজি কেনা হয় প্রায় ৩ হাজার টাকায়। হাতে গোনা একজন ইমপোর্টার এই চিজ ইমপোর্ট করেন। পরিচিতি কম পাওয়ায় আপাতত এই জিলাপি আমরা পরিমাণে খুব কম তৈরি করছি। মানুষ এখনও এই জিলাপির সঙ্গে সেভাবে পরিচিত না। তবে আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
