টিপকাণ্ডে আরেক পুলিশ কর্মকর্তার ‘আপত্তিকর’ পোস্ট

কপালে টিপ পরায় এক নারীকে হেনস্তার ঘটনার মধ্যেই আপত্তিকর মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন সিলেটের এক পুলিশ পরিদর্শক। যদিও তিনি ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর সেটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেছেন। ওই পুলিশ পরিদর্শক সিলেট জর্জ কোর্টে কর্মরত রয়েছেন। তার এমন ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে লিয়াকত আলী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি লেখা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি টিপ ইস্যুতে প্রতিবাদ করা পুরুষদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রসঙ্গ : টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানি। ফালতু ভাবনা: (১৮+) টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানি করার প্রতিবাদে অনেক পুরুষ নিজেরাই কপালে টিপ লাগাইয়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু আমি ভবিষ্যৎ ভাবনায় শঙ্কিত। বিভিন্ন শহরে অনেক নারীরা যেসব খোলামেলা পোশাক পরে চলাফেরা করেন, তার মধ্যে অনেকেরই…’’ (বাকি অংশ ছাপানোর উপযোগী নয়)।

পুলিশের একজন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে হতবাক সিলেটের সুশীল সমাজ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘টিপ নিয়ে একজন পুলিশের আপত্তিকর মন্তব্যে যেখানে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সারা দেশ, সেখানে সিলেটের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহরে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ সদস্যের এমন মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এমন চিন্তা-চেতনার লোক রাষ্ট্রের মূলনীতি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তাই পুলিশের মতো সংবেদনশীল বিভাগ থেকে লিয়াকত আলীর মতো ব্যক্তিদের অপসারণ করতে হবে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি টিপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি। পুরুষ হয়ে টিপ পরে প্রতিবাদ জানানোর ভাষাটা আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি। আমার এ পোস্টে যত মন্তব্য হয়েছে, আমি সেগুলোর একটিও নেগেটিভ দেখছি না।’

যারা এ পোস্টের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা এর মানেই বুঝেননি। আমি টিপের বিরুদ্ধে নই। এটা আমার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিও নয়। ব্যক্তি লিয়াকত এ পোস্ট করেছে। এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনার প্রকাশ করি। নারী নিয়ে কোনো অবমাননা করিনি’, বলেন লিয়াকত আলী।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং তা খতিয়ে দেখছি। এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে তার এই পোস্ট যদি কাউকে অবমাননার হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *