গণমাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টিপ। কপালে টিপ পরার কারণে শনিবার (২ এপ্রিল) হেনস্তার শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের এক নারী প্রভাষক। হেনস্তাকারীর ভূমিকায় ছিলেন এক পুলিশ সদস্য।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সংসদে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বিষয়টি। এই ঘটনার প্রতিবাদ আসছে দেশের প্রায় সর্বস্তরের শিল্পী-কুশলীর পক্ষ থেকে। শুধু জবাবই নয়, সোশাল হ্যান্ডেলে নিজ নিজ দেয়ালে শিল্পীরা প্রকাশ করছেন নিজেদের টিপ পরা ছবি এবং ক্যাপশনে দিচ্ছেন প্রশ্নের উত্তর।
এবার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।
কপালে টিপ দেওয়া নিজের ছবি দিয়ে মিথিলা বলেন, “আমার টিপ নিয়ে কোনও কথা নয়, আমার স্বাধীনতা নিয়ে কোনও কথা নয়। যদি থাকে আমার আগুনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার ভয়, পৃথিবীটা তোমার একার নয়।”
শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কলেজে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্তের শিকার হন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার।
তিনি অভিযোগ করেন, কলেজে হেঁটে যাওয়ার সময় পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন- ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তির গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে তার পায়ের ওপর দিয়েই বাইক চালিয়ে চলে যান সেই ব্যক্তি। এতে তিনি আহত হন।
মিথিলা বলেন, ‘‘ধর্ম আর অসহিষ্ণুতা বিশ্বকে ক্রমশ গ্রাস করছে। আজ হিজাব, কাল টিপ, পরশু শাড়ি। নারীর কিছু না কিছু নিয়ে অকারণ বক্তব্য। এটা একেবারেই কাম্য নয়। আমি কী পরব সেটা সম্পূর্ণ আমার বিষয়। আমি কী করব, সেটাও। যিনি বলবেন তাকে আমার রোষের আগুনে পুড়তে হবে।’’
প্রসঙ্গত, কপালে টিপ পরা নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় এক শিক্ষিকাকে হেনস্তার ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ ৪ এপ্রিল (সোমবার) ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার সোমবার সকালে এ তথ্য জানান।
