যৌনকর্মীরা না থাকলে নারীরা এত নিরাপদে থাকতো না: মিথিলা

এই প্রথম ভারতীয় বাংলা সিরিজে। এই প্রথম সাহসী চরিত্রে মিথিলা। হইচইয়ের আলোচিত ‘মন্টু পাইলট ২’ সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। সিরিজটি প্রকাশের আগেই ‘বহ্নি’ চরিত্রের মিথিলাকে নিয়ে বেশ আলোচনা ওপার বাংলায়। যৌনকর্মীদের নিয়ে তৈরি গল্পে যৌনতা, গালিগালাজে ভরপুর ছিল প্রথম সিজন।

এমন সিরিজে অভিনয় করতে কেন রাজি হয়েছেন? মিথিলা বলেন, ‘গল্পটি শোনার পর এক মুহূর্তের জন্য কোনও দ্বিধা, জড়তা কাজ করেনি। এটা সমাজের এমন একটা অবহেলিত গোষ্ঠীর গল্প, যাদের প্রতি মুহূর্তে আমরা সমাজচ্যুত করার চেষ্টা করি। সমাজে প্রতিটি পেশার মানুষের মতো যৌনকর্মীদেরও অবদান আছে। ওরা (যৌনকর্মী) না থাকলে সমাজের নারীরা এত নিরাপদে থাকতে পারতেন না।’

তিনি যোগ করেন, ‘কেন যৌনকর্মীর জীবন সাধারণ মানুষ দেখবে না? কেন তাদের কষ্ট আমরা বুঝব না? কেন ওরা আমাদের পাশে জায়গা পাবে না? কেউ সেটা দেখাতে বা বলতে চাইলে কেন সেই বিষয়কে বিতর্কিত তকমা দেব! সিরিজের বিষয়টি নিয়ে প্রশংসাসূচক আলোচনা হতেই পারে। সবার অভিনয় নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। কিন্তু সমালোচনা কোনও মতেই নয়। এই সিরিজে যৌনপল্লির প্রকৃত চেহারা বা পরিবেশটাই দেখিয়েছেন দেবালয়। এখানে জৌলুসের কোনও জায়গা নেই।’

নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, ‘শুরুতে বহ্নি বড় লোক বাবার আদুরে মেয়ে। ঘটনাচক্রে নীলকুঠিতে চলে আসে সে। এখানে এসে নিজেকে নতুন করে চিনতে পারে বহ্নি। নিজের জীবনের সমস্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শেখে। একটা সময়ের পরে মানবী বহ্নি যেন নারীশক্তিতে বলীয়ান হয়ে অতি মানবীতে পরিণত হয়।’

পর্দায় এমন সাহসী চরিত্রে অভিনয়ে তার স্বামী সৃজিত মুখার্জি নিষেধ করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মিথিলা বলেন, ‘আমার পেশাগত কোনও ব্যাপারে সৃজিত কখনও মাথা ঘামান না। মন্তব্যও করেন না। আমি কোন চরিত্রে, কোন পরিচালকের কী ছবিতে বা কোন দেশের ছবিতে বা সিরিজে অভিনয় করব, সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *