আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের একটি মসজিদকে হুমকিমূলক বার্তা দেয়া হয়েছে। মসজিদের চিঠির বাক্সে বার্তাটি রেখে যাওয়া হয়। যাতে আরব, তুর্কি ও সেখানকার মুসল্লিদের হত্যার হুমকিসহ অবমাননামূলক কথা বলা হয়েছে। ইসলাম ও ইনফো ওয়েবসাইটের বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদলু এমন খবর দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তোমাদের দেশ থেকে বের করে দেব। সামুয়েলের মৃত্যুর কড়ায়-কণ্ডায় হিসাব নেব। শ্রেণিকক্ষে মহানবীকে(সা.) বিদ্রূপ করে কার্টুন প্রদর্শন করাই সামুয়েল পাটি নামের ওই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
মসজিদকে দেয়া হুমকির নোটিশে হিজাব মুসলিম নারীদের নিয়েও কটূক্তি করা হয়েছে। তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয়া হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। বিশ্বজুড়ে ইসলাম সংকটে আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের উপকণ্ঠে দেশটির এক স্কুল শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত কার্টুন শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের কারণে ক্ষুব্ধ ওই কিশোর স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেন। পরে ফ্রান্সের সরকার ওই স্কুল শিক্ষককে দেশটির সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত সেই কার্টুন প্রদর্শন শুরু করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্টর এই অবস্থানের প্রতিবাদে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়ে গেছে। অনেক খ্যাতনামা চেইন শপসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফরাসি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাকালে এই বর্জনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আঁচ করতে পেরে আরব দেশগুলোর প্রতি পণ্য বর্জন বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।
