দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব, মুক্তি প্রসঙ্গে সাকিব

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন। রাত পোহালেই আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবেন দেশের ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন করে শুরুর একটি দিন। দেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান নতুন করে পথ চলা শুরু করবেন। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও ক্রিকেট মাঠে মুক্ত হচ্ছেন সাকিব। এক বছর ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও ভক্তকুলের বিশ্বাস আগামীকাল থেকে সাকিব ফিরবেন আরো অনেক শক্তিশালী হয়ে।

 

সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এখন পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার মুক্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাকিবকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে সাকিব জানিয়েছেন, তিনি নিজের সেক্টরে (ক্রিকেটের মাধ্যমে) দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

 

সাকিব বলেন, ‘আশা করছি আপনারা আন্তরিকতা, ভালোবাসা, সাপোর্ট সবসময় আমাদেরকে দেবেন। আমাকে, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে, বাংলাদেশের মানুষকে, বাংলাদেশকে ইনফ্যাক্ট। যেভাবে আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। আমি আমার সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করব, আপনারাও আপনাদের জায়গা থেকে এগিয়ে নেবার চেষ্টা করবেন।’

 

সংবর্ধনার শুরুতেই সাকিব মহামারি করোনা যাদের প্রাণ নিয়েছে তাদের আত্মার মুক্তি কামনা করেছেন। ভাইরাস থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘এখানে অনেকবারই এসেছি, অনেকের সাথেই দেখা হয়েছে, পরিচয় হয়েছে। এই করোনার কারণে এবার অনেককেই আমরা দেখতে পাইনি। আমরা যাদের হারিয়েছি তাদের বিদেহী আত্মার জন্য মাগফিরাত কামনা করব। আমি আশা করব আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন। আশা করছি যারা আমরা সুস্থ আছি তারা যেন সুস্থতা বজায় রেখে চলতে পারি।’

 

তিন বার বাজিকরের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও আইসিসি বা বিসিবিকে জানাননি সাকিব। সেই অপরাধে গত বছর শাস্তি পেয়েছিলেন তিনি। সেটা ছিল বাংলাদেশের জন্য একটা বজ্রাঘাতের মতো ব্যাপার। ২০২০ সালে বাংলাদেশের এক গাদা ম্যাচ খেলার কথা ছিল। সেই সময়টা সাকিবকে ছাড়া পাড়ি দেওয়ার সম্ভাবনাই আতঙ্কিত করেছিল সবাইকে। অবশ্য সাকিবকে ছাড়া খুব বেশি ম্যাচ খেলতে হয়নি বাংলাদেশকে। করোনা এসে সবাইকেই মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

 

সাকিব অক্টোবরে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ২১ সেপ্টেম্বর; আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সে ম্যাচেও ৭০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি টি-টুয়েন্টি, ৪টি টেস্ট এবং ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। ১১ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে করোনার কারণে খেলাধুলা একেবারেই স্থগিত হয়ে আছে। এখন বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার।

 

তবে মাঠের বাইরে থাকলেও গত একটি বছর তার জীবন থেমে থাকেনি। এই সময় দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। নিজের নামে ফাউন্ডেশন খুলে করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ফেরার প্রস্তুতি নিতে দেশে এসে করে গেছেন বিজ্ঞাপনের শুটিংও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *