শাকিব খান দুর্দান্ত অভিনেতা: কোর্টনি কফি

কিছুদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল এবার আমেরিকান অভিনেত্রীর বিপরীতে পর্দায় দেখা যাবে শাকিব খানকে। অভিজ্ঞরা বলেন, শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে কখন কি বিষয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বলা দায়। কিন্তু এই ব্যাপারটি যে গুঞ্জন ছিল না জানা গেল গতকাল।

২৮ মার্চ ছিল শাকিব খানের জন্মদিন। মার্কিন মুলুকে এবার এই চিত্রনায়ক দিনটি পালন করেছেন। এদিনই আমেরিকান অভিনেত্রী নিয়ে নতুন সিনেমার মহরত করে চমক দেখান শাকিব।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) ভোরে নিউ ইয়র্কের একটি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে শাকিব প্রযোজিত নতুন সিনেমা ‘রাজকুমার’-এর মহরত। এই আয়োজনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মার্কিন নায়িকা কোর্টনি কফিকে। এ সময় প্রকাশ করা হয় সিনেমার প্রথম মোশন পোস্টার।

সেখানেই কথা বলেন এই দুই শিল্পী। শাকিবের প্রতি মুগ্ধতাও ঝরে কোর্টনির কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে ছবিতে সম্পৃক্ত হতে পেরে। এতে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে আমার ধারণা হয়েছে, দেখেছি। শাকিব খান দুর্দান্ত অভিনেতা। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আরও ভালো লাগছে।’

সিনেমাটি প্রযোজনা করছে শাকিবের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে আছেন কাজী রিটন ও জাকারিয়া মাসুদ। ছবিটি পরিচালনা করছেন হিমেল আশরাফ।

তিনি বলেন, ‘কোর্টনি কফির সঙ্গে আগে কখনও পরিচয় ছিল না। নায়িকা খোঁজার দায়িত্বটা আমরা পেশাদার একটি এজেন্সিকে দিয়েছিলাম। তারা ৮৬ জনের তালিকা আমাদের প্রথমে দেয়। এরপর কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে সেরা তিন জন নির্বাচিত হয়। শেষ পর্যন্ত কোর্টনি কফিই আমাদের সঙ্গে আছেন।’

অনুষ্ঠানে সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘আমি জানিনা এটা আগে হয়েছে কি না। তবে আমার জন্য তো এটাই প্রথম, যেটার স্বপ্ন আমি সবসময় দেখেছি। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সিনেমা তো এগিয়ে যাচ্ছে আমরা কবে পারব।’

শাকিব খান বলেন, ‘আজকে বলতে তো পারছি যে ভাই আমেরিকা গিয়ে শুধু গ্রিন কার্ডের জন্য ঘুরেই আসিনি, সঙ্গে নিয়ে গেছি আমার দেশকে, নিয়ে গেছি আমার চলচ্চিত্রকে।

‘আমাদের ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে শুনলেন যে তিনি লিখে দিয়েছেন কমপক্ষে দেড়শ প্রেক্ষাগৃহে তিনি সিনেমাটি পরিবেশন করবেন। তিনি হলিউড, বলিউড ডিস্ট্রিবিউট করেন। এমন ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গেই আমরা যাচ্ছি। এমন একটা ব্যবস্থা সূচনা করে তো যেতে পারছি।’

দেশে এখন সিনেমা হল নেই। সে কথা উল্লেক করে শাকিব বলেন, ‘আমার দেশে সিনেমা হল কমে গেছে। আমি দেশের সিনেমা হলের সঙ্গে যদি বাইরের আরও দেড়শ সিনেমা হল পাই তাহলেই তো হয়ে যাচ্ছে। আমি কেন আমার গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকব। আমার পাশের দেশের সিনেমা গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূর চলে গেছে। আমরা অস্কারের দিকে তাকালে দেখি করিয়ান সিনেমা কোথায় চলে গেছে। এবারের অস্কারের দিকে তাকালে দেখি জাপানের সিনেমা কোথায় চলে গেছে। আমাদের এগোতে হবে একটু একটু করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *