১২ দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করতেন সেলিমপুত্র ইরফান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের জীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে দেশের বাইরে। পড়াশোনার সুবাদে কানাডায় ছিলেন বহু বছর। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ছিল নিয়মিত যাতায়াত। সেখান থেকেই তাকে পেয়ে বসে ভয়ংকর সব নেশা।

 

এই নেশা কেবল মাদকের নয়, বরং সিনেমার ভিলেনের মতো চলার নেশা। এমন চিন্তা থেকেই তিনি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিজস্ব ‘নেটওয়ার্কিং সিস্টেম’ গড়ে তোলেন। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করেন। ওয়াকিটকি মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ রক্ষা করতেন। নিজের চলাফেরার জন্য সব সময় পাশে রাখতেন ১২ জন দেহরক্ষী।

 

র‌্যাব বলছে, অধিকাংশ দেহরক্ষীরই অবৈধ অস্ত্র আছে। ব্যবহারের চেয়ে ভয়ভীতি দেখানোর কাজে ব্যবহার করা হত। এই অস্ত্রগুলো অবৈধ পথে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তার দেহরক্ষী জাহিদুলের কাছ থেকে এমনই এক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

র‌্যাব সূত্র বলছে, দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়মিত মদ পান করেন ইরফান। ঘটনার দিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ খানকে যখন মারধর করা হয় তখনও তিনি মাদক সেবন করেছিলেন। মদ খেয়ে মাতাল অবস্থাতেই মারধর করেন তিনি। ঘটনার পর বাসায় ফিরে নিজের ভুল বুঝতে পারেন ইরফান। এই মারধরের পরিণাম ভাল হবে না ভেবে আবার দাদা বাড়ীর চারতালায় নিজের বারে ঢুকে সারারাত মদ পান করেন। অভিযান শুরু হলে র‌্যাবকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। নিজের মদ পানের কথাও স্বীকার করেন। অভিযান চলাকালীন সময়েই তার ডোপ টেস্ট করে র‌্যাব। সেটার রেজাল্টও পজিটিভ আসে।

 

বাংলা জানেন না ইরফান

ছোটবেলা থেকেই কানাডায় থাকার কারণে বাংলা ভাষার সঙ্গে তেমন সম্পর্ক ছিল না ইরফানের। হঠাৎ করেই দেশে ফিরে রাজনীতি শুরু করেন ইরফান। তবে বাংলা ভাষার চর্চা তখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি তিনি। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সময়ে আদালতের কাছে অপরাধের স্বীকারোক্তি লেখার সময় বাংলার চেয়ে ইংরেজি লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার কথা জানিয়েছিলেন ইরফান। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত সেটাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বাংলা লিখতে অপারগতা প্রকাশ করেন এই কাউন্সিলর। পরবর্তীতে অন্য একজনের সহায়তায় বাংলা লেখা দেখে, নিজের অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক স্টেটমেন্ট দেন ইরফান।

 

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ইরফানের বাংলাটা খুব একটা ভালো না। সে ইংরেজি বলতে ও লিখতে অভ্যস্ত বলে মনে হয়েছে। আদালতের আদেশের নিজের নাম বাংলা লিখতেও অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

রোববার রাতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফকে মারধরের ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় মামলা হয়। এর পর পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের বাসায় র‌্যাব অভিযান চালায়। এ সময় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার কারণে দিয়েছেন ছয় মাসের কারাদণ্ড। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাস সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র, ইয়াবা, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *