কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ ভালো থাকতে পারে না: অভিনেত্রী নূতন

দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূতন। প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে রেখেছেন তিনি। বর্তমানে এই অভিনেত্রী রয়েছেন পর্দার বাইরে। নিয়মিত তাই আসেন না এফডিসিতেও।

সর্বশেষ তাকে এফডিসিতে দেখা যায় শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটের দিন। এবার দেখা গেল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে পারফর্ম করতে। লাল শাড়ি, লাল চুড়ি আর খোপায় ধবধবে সাদা বেলিফুলের মালা পরে মঞ্চ মাতালেন তিনি।

তার পারফর্মে কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত দর্শকরা চলে গিয়েছিলেন আশির দশকের সোনালী অতীতে। সেই সময়ে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট ছবি ‘আঁখি মিলন’ এর জনপ্রিয় গান ‘তুই কেমন পুরুষ রে আমার মনের কথাগুলো পড়তে পারিস না’ গানেই নাচেন নূতন।

মঞ্চে নাচার পর নূতন বললেন, ‘আমি মূলত নাচেরই শিল্পী। আমার সারা শরীরে, সারা অঙ্গে নাচ ঢেউ খেলে থাকে। আমি মঞ্চে সারা দিন নাচলেও মনে হবে না ক্লান্ত হবো।’

পারফর্ম শেষে নূতন যখন সাজঘরে যাচ্ছিলেন আশে পাশে তখন নূতনকে নিয়ে নয় নতুন তারকাদের নিয়ে ব্যস্ত অনেকেই। নূতন তাদের দিকে বার বার তাকাচ্ছিলেন। চোখে মুখে ফুটে উঠেছিলো আক্ষেপ, অভিযোগ আর অভিমান। কাছে যেতেই সে অভিমান ঝরে পড়ল।

বললেন, আমি কিন্তু ক্ল্যাসিকেল শিল্পী। শুধু আমি নই আমার মতো অনেকেই আছেন। কিন্তু এখন যে কোনো অনুষ্ঠানে শুধু জুনিয়র শিল্পীদের নিয়েই মেতে থাকা হয়। পারফর্ম করানো হয়। আমি বলছিনা তারা করবে না। তারাও করবে আর আমাদের মতো সিনিয়রদের দিয়েও করাতে হবে। আমরা তো অমূল্যায়ণ করার মতো শিল্পী-অভিনেত্রী না।’

নায়িকারা পুরোনো হলে নাকি কদর থাকে না? এমন কথা বলে থাকেন এই প্রজন্মের অনেক নায়িকা। বিষয়টি সামনে আনতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন নূতন। বললেন, ‘যারা এসব বলে তাদের আগে যোগ্য হয়ে ইন্ডাষ্ট্রিতে আসতে বলেন। এসব কথা বলতেও যোগ্যতা লাগে। আমাদের মতো কয়েকশ ছবি করে এসে এসব কথা বলতে বলেন। দুইদিন হয় এসেই এভাবে কথা বলা ঠিক না তাদের।’

নূতন মনে করেন, একজন সিনিয়র শিল্পী সব দিক থেকেই সিনিয়র। হুট করে এসে সে সিনিয়র হয়ে যায় না। তাকে সিনিয়র হতে অনেক টাইম লাগে। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক অবদান থাকে ইন্ডাষ্ট্রিতে।

নূতনের ভাষ্য, বিষয়টি কিন্তু এমন না হুট করে এলাম আর সিনিয়র হয়ে গেলোম সেই সিনিয়রদের যদি আপনি অবহেলা করে মাত্র জন্ম হয়েছে সেই শিল্পীদের অত্যধিক গুরুত্ব দেন সেটা তো অন্যায়। মনে রাখবেন, কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ ভালো থাকতে পারে না। আজ যাদের পেছনে আপনারা ঘুরছেন তারা যখন সিনিয়র হবেন দেখবেন তাদেরও কেউ পাত্তা দেবে না। এ চর্চাটা খারাপ।’

কথা বলার মাঝেই কয়েকজন মেয়ে চলে এলেন নূতনের কাছে। বলে উঠলেন, ম্যাডাম আমরা আপনার ফ্যান। আপনার নাচ আর অভিনয় দেখে দেখে বড় হয়েছি। আপনাকে সালাম করতে চাই। নূতন তাদের আবেগে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন সালাম করতে হবে না বুকে এসো। তবুও তারা সালাম করলেন। নূতন তাদের আর্শিবাদ করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *