নিত্যপণের লাগামহীন দরের মধ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানি

একদিকে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের দাম। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানির বাজার। বেড়েছে তেল ও এলএনজির দাম। এরইমধ্যে গত নভেম্বর মাসে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

এখন আবার নতুন করে আলোচনায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি। এমন এক পরিস্থিতিতে আজ সোমবার (২১ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানি। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত চলবে এ শুনানি।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে প্রস্তাব দেয়।

কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল তা যাচাই করে গণশুনানির সূচি নির্ধারণ করে।

বিইআরসি আইন অনুযায়ী, গ্যাস খাতের অংশীজনের মধ্যে আগ্রহী প্রতিনিধিদের গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে কমিশন। শুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষক দল তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

এদিকে বিইআরসি যদি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে রান্নার জন্য দুই চুলার সংযোগ ব্যয় ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ১০০ টাকা হবে। আর এক চুলার ব্যয় ৯২৫ টাকা থেকে বেড়ে হবে দুই হাজার টাকা হবে।

এদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সভায় গ্যাস কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দাম অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, ১১৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। কারণ গ্যাসের কোম্পানিগুলো লোকসানে নেই।

তিনি বলেন, এখন হঠাৎ করে ভর্তুকি তুলে দাম বাড়ালে আমাদের অর্থনীতিতে ধস নামবে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গ্যাসের দাম বাড়ানোয় যে গণশুনানি হবে, সেখানে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক তথ্য দেয়নি। বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে যতগুলো কোম্পানি আছে, তারা সবাই কিন্তু লাভ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *