বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর সিনেমার অফিশিয়াল টিজার পোস্টার প্রকাশ হয়েছে আজ। এত দিন সিনেমাটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে প্রচার হয়ে আসলেও টিজার পোস্টারে নাম লেখা হয়েছে ‘মুজিব’। সঙ্গে ট্যাগ লাইন যুক্ত করা হয়েছে ‘একটি জাতির রূপকার’।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় বিএফডিসিতে আয়োজন করে এই পোস্টার প্রকাশ হয়। সেই অনুষ্ঠানে সিনেমাটির নাম পরিবর্তনের কারণ জানান বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন।
বলেন, কাজ শুরুর জন্য ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি ছিল ওয়ার্কিং টাইটেল। পরে আরেকটি নাম হবে, এই সিদ্ধান্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি নাম প্রস্তাব করা হলে তিনি সবগুলোর মধ্যে ‘মুজিব’ নামটি পছন্দ করেন। এ জন্যই ওয়ার্কিং টাইটেল ‘বঙ্গবন্ধু’ পাল্টে রাখা হয়েছে ‘মুজিব’।
এদিকে ‘মুজিব’ সিনেমার অফিশিয়াল টিজার পোস্টারে দেখা মিলেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মুহূর্ত। সাদা পাঞ্জাবিতে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন বঙ্গবন্ধু।
টিজার পোস্টারে বঙ্গবন্ধু-রূপে যিনি হাত নাড়ছেন, তিনি ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই চিত্রনায়ক।
টিজার পোস্টার প্রকাশ অনুষ্ঠানে আরিফিন শুভ মুখোমুখি হয়েছিলেন গণমাধ্যমের। সেখানে নায়ক জানিয়েছেন এক আকাঙ্ক্ষার কথা।
শুটিং শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নে আরিফিন শুভ জানিয়েছেন, “উনি অনেক ব্যস্ত একজন মানুষ। তাছাড়া তাঁর সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হওয়ার কথাও না। আমি শুধু তাঁর বাবার চরিত্রে পর্দায় এসেছি মাত্র। তবে আশা করি এই সিনেমার ফাইনাল ভার্সনটা উনি যেদিন দেখবেন, তার পর যদি কখনও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়… আমি চাইব উনি কাজটি নিয়ে আমাকে কিছু বলুক। এর আগে যেদিন দেখা দেখা হয়েছিল ‘আব্বা’ বলে ডেকেছিলেন; সেদিন বলেছিলেন, ‘ভালো কইরা কইরো’। ভালো করে করতে পেরেছি কি না, এটা তাঁর কাছে শোনার আকাঙ্ক্ষাটা আমার মধ্যে আছে।”
আলাপচারিতায় আরিফিন শুভ জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুকে নকল করেননি। সেই গল্প প্রসঙ্গে নায়কের ভাষ্য, “পরিচালক শ্যাম বেনেগাল স্যার আমার কাজে খুশি হয়েছেন। আমি শুধু পর্দায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হয়ে আসছি। আমি অভিনয় বলব না, তার কারণ আছে। আমাকে পরিচালক বলেছিলেন, ‘ডোন্ট কপি হিম’… (তাঁকে নকল করো না)। তাঁর দর্শনকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। পরিচালক এ-ও বলে দিয়েছিলেন, একদম তাঁর মতো ওঠা-বসা, কথা বলতে হবে—এটা দরকার নেই। এটা করতে গেলে কপি করতে হতো। আমাকে আত্মিক জায়গাটা ধরতে বলেছিলেন। তাই আমি বলতে পারি, তাঁর চরিত্র নিয়ে পর্দায় আসছি।”
