হুঁশ আসার পর চিৎকার করে কেঁদেছিলাম: বিদ্যা বালান

বিদ্যা বালান, বলিউডের আকর্ষণীয় নায়িকা। অভিনয় দক্ষতা তো বটেই, তার শরীরি ভাষাও দর্শক হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেয় রীতিমতো। বিশেষ করে সিল্ক স্মিতার জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘ডার্টি পিকচার’ সিনেমায় বিদ্যার উপস্থিতি এখনো দর্শকের চোখে ভাসে।

এ সিনেমার জন্য নিজের শরীরে পরিবর্তনও এনেছিলেন। দর্শকের ভাষায় যেটাকে বলে ‘নাদুস নুদুস’। এরপর বিদ্যাকে আরও কিছু সিনেমায় দেখা গিয়েছিল বটে, কিন্তু ডার্টি পিকচারের বিদ্যাকেই যেন দর্শক খুঁজতেন বেশি।

সেই বিদ্যা আবার ফিরছেন পর্দায়। এবার ওটিটিতে বিদ্যা আসছেন বলিউডের আরেক দাপুটে অভিনেত্রী শেফালি শাহর সঙ্গে। আমাজন প্রাইম ভিডিওর থ্রিলারধর্মী ‘জলসা’ ছবিতে বিদ্যা আর শেফালিকে একসঙ্গে দেখা যাবে।

মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের সঙ্গে আলাপচারিতার শুরুতেই উঠে এল ‘জলসা’ ছবির কথা। এই ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক সাংবাদিকের চরিত্রে।

‘জলসা’ ছবিতে তিনি নিজের চরিত্রের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে বাংলাদেশের এক জাতীয় দৈনিককে বলেন, ‘এই ফিল্মি ভ্রমণে অসংখ্য সাংবাদিক আর সম্পাদকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তাই আমার আলাদা করে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করা বা স্টুডিওতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। আর আমাকে প্রস্তুত করার জন্য পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী ছিলেন।’

বিদ্যা এই আলাপচারিতায় জানান যে শুরুতে তিনি ‘জলসা’ ছবিটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এর কারণ হিসেবে এই বলিউড অভিনেত্রী বলেন, ‘আসলে শুরুতে এই ছবি করার সাহস আমি পাইনি। কারণ, আমার অভিনীত চরিত্রটি ধূসর। তাই আমার মনে হয়েছিল, যে মানুষ আমাকে এই ধূসর চরিত্রে যথাযথভাবে গ্রহণ না করতে পারে। আর আমার সমালোচনা করতে পারে। সত্যিই আমি সাহস পাচ্ছিলাম না। তবে এই ছবির চিত্রনাট্য আমার দারুণ পছন্দ হয়েছিল। আসলে অতিমারি আমার চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। আমার মনে হয়েছিল, প্রত্যেকে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সঠিক। তাই আমরা কারোর সমালোচনা করতে পারি না। আর যখন আমার মনে এই ধরনের অনুভূতির জন্ম

বিদ্যাকে এখন বলিউডের শীর্ষস্থানীয় নায়কদের সঙ্গে সচরাচর দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে ছবি করার প্রস্তাব এখন আর পাচ্ছি না। আমি এখন ব্যতিক্রমী ও দাপুটে চরিত্রে, দুর্দান্ত কনটেন্টে আর দারুণ গল্পে কাজের সুযোগ পাচ্ছি। তবে আমি দুর্দান্ত সব অভিনেতার সঙ্গেও কাজ করেছি। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘মিশন মঙ্গল’, ইমরানের (হাসমি) সঙ্গেও একটা ছবিতে অভিনয় করেছি।’

বিদ্যা মনে করেন যে পুরুষশাসিত বলিউড সাম্রাজ্যে যে বদল এসেছে, তা রাতারাতি নয়, সময়ের সঙ্গে এখানে বদল এসেছে। আর এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একটা সময় শ্রীদেবী, মাধুরী দীক্ষিতের যুগ ছিল। তাঁদের শক্তিশালী নারী চরিত্রে দেখা যেত। কিন্তু তারপর কিছুদিন আর সেই দাপট দেখা যায়নি। তবে গত ১২ বছরে আবার বদল এসেছে। আর এ সবকিছুর জন্য আমি মীনা কুমারী, হেমামালিনী, রেখা, জয়া বচ্চন, শাবানা আজমির মতো অভিনেত্রীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁদের অবদানের জন্যই আজ আমরা এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। তাঁরাই এক বিশেষ ক্ষেত্রের জন্ম দিয়েছেন।

আমার মনে আছে, অনেকে আমায় বলেছেন যে অভিনেত্রীরা সারা জীবনে দুটি কিংবা একটা শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তবে এখন এ সবকিছু বদলেছে। এ প্রজন্মের অভিনেত্রীদের দিকে তাকিয়ে দেখুন শুধু। তাপসী পান্নু, আলিয়া ভাট, কঙ্গনা রনৌত, দীপিকার মতো অভিনেত্রীরা দারুণ কাজ করছে।’

‘জলসা’ ছবির ট্রেলারে বিদ্যাকে বেশ কিছু দৃশ্যে রাগতে দেখা গেছে৷ ব্যক্তিগত জীবনে কোন কোন বিষয়ে তিনি রেগে যান, জবাবে এই বলিউড নায়িকা বলেন, ‘অনেক কারণে আমি রেগে যাই। তবে আমি নিজেকে রাগী মানুষ হিসেবে দেখতে মোটেও পছন্দ করি না। আমার সবচেয়ে বেশি রাগ হয়, যখন কেউ আমাকে বা আমার আশপাশের মানুষকে অসম্মান করে। এটা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না। আগে আমি রেগে গেলে তা প্রকাশ করতে পারতাম না। নিজে গুমরে মরতাম। তবে এখন আমি তা সঙ্গে সঙ্গে উগরে ফেলি।’

রেগে গিয়ে বিদ্যা একবার এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। চিত্রনির্মাতা কে বালাচন্দরের দুটি ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার রেশ টেনে বিদ্যা বলেন, ‘আমি তখন এতটাই রেগে গিয়েছিলাম যে চড়া রোদের মধ্যে মেরিন ড্রাইভ থেকে বান্দ্রা হেঁটে এসেছিলাম। আমার হুঁশ ছিল না যে আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে হেঁটে চলেছি। হুঁশ আসার পর রাগে চিৎকার করে কেঁদেছিলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *