দর্শক সবসময় কাবিলাকে একইভাবে দেখতে চায়: পলাশ

কাজল আরিফিন অমি পরিচালিত বহুল আলোচিত টিভি সিরিয়াল ‘ব‌্যাচেলর পয়েন্ট’। ২০১৯ সালের শেষের দিকে সিরিয়ালটির প্রথম সিজনের সম্প্রচার শুরু হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ‌্যানেল বাংলা ভিশনে। পাশাপাশি এটি মুক্তি পেয়েছে ধ্রুব টিভির ইউটিউব চ‌্যানেলে।

দর্শক চাহিদা মাথায় রেখে নির্মিত হয় সিরিয়ালটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিজন। গত বছরের ১৩ এপ্রিল ধ্রুব টিভির ইউটিউব চ‌্যানেলে মুক্তি পায় এই সিরিয়ালের শেষ পর্ব (৭৯)। শেষ লগ্নে কাবিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এভাবে শেষ হওয়ায় আবেগে ভাসেন দর্শকরা। কেউ কেউ তার মুক্তি দাবি করেন। পাশাপাশি নতুন সিজন নির্মাণের জোর দাবি জানান তারা।

অবশেষে দর্শকের দাবি পূরণ করতে নতুন সিজন নিয়ে আসছেন পরিচালক। আগামী ১১ মার্চ থেকে টেলিভিশন ও ইউটিউবে প্রচার হবে ব্যাচেলর পয়েন্টের সিজন-৪। তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপন, আবেগ, তাদের হাসি ও আনন্দ নিয়ে উঠেছে এই ধারাবাহিকের কাহিনি।

নাটকটিতে ‘কাবিলা’ চরিত্রে অভিনয় করে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন জিয়াউল হক। এমনকি তিনি নিজের নামের চেয়ে কাবিলা নামেই এখন বেশি পরিচিত।

নতুন সিজনের শুটিংয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্টের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা অনেক মজার। কখনো মনে হয় না যে, আমরা শুটিং করছি। মনে হয় আমরা পিকনিক করতে এসেছি। সিজন ফোরে নতুন নতুন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রচারে আসার পর আমরা জানব, কোন পর্বের শুটিং করতে গিয়ে আমাদের কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।’

কাবিলা চরিত্র নিয়ে পলাশ বলেন, ‘কাবিলা চরিত্রটা এমন, তাকে দর্শকরা সবসময় একইভাবে দেখতে চায়। সিজন থ্রিতে মানুষ দেখেছে যে, আমি জেলে ছিলাম। এখন জেল থেকে বের হয়েছি নাকি হইনি, সেই কৌতুহলটা দর্শকের জন্য রেখে দিলাম। আশা করি দর্শক এবার সবকিছুই নতুন দেখতে পাবে।’

সিজন থ্রির শেষ পর্বে দেখানো হয়, কাবিলাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সেটা মেনে নিতে পারেনি দর্শক। পর্বটি প্রচার হওয়ার পর থেকেই দর্শকরা কাবিলার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এমনকি রাস্তায় মিছিল করতেও দেখা গেছে।

ওই পর্ব প্রচারের পর মুহূর্তের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পলাশ বলেন, “সেদিনের অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ানক! আমার মনে আছে, যেদিন জেলের পর্বটা প্রচার হয়েছিল, সেদিন আমি নিজের পরিচালনায় একটি নাটক বানাচ্ছিলাম। সেটার শুটিং করছিলাম ধানমন্ডিতে। আমার মাথায় ছিল না যে, ওটাই শেষ পর্ব। আমার শুটিংয়ের মধ্যেই প্রচুর লোকজন এসে জিজ্ঞেস করছিল, ‘ভাই আপনাকে জেলে নিলো কেন? আপনাকে জেলে নেওয়া ঠিক হয়নি।’ এরপর থেকে প্রতিনিয়ত আমাকে এই প্রশ্ন শুনতে হয়েছে। এখনো পর্যন্ত রাস্তায় বের হলে মানুষ জিজ্ঞেস করে, ‘ভাই আপনি না জেলে? বাইরে কী করেন?”

পলাশ বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ যেখানেই যাই এতটুকু বুঝতে পারি দেশের প্রত্যেক পরিবারের কেউ না কেউ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখে। হয়তো মুরুব্বী দেখে, নইলে তার ছেলে দেখে অথবা মেয়ের জামাই দেখে; কেউ না কেউ অবশ্যই কাজটি দেখে। খুব ভালো লাগে যখন অজপাড়া গ্রামে যাই সেখানে দেখি চায়ের দোকানে খেতে খেতে অনেকেই ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখছে।’

ধারাবাহিক নাটক দর্শকের কাছে এমন জনপ্রিয়তা পাওয়াকে ‘হিউজ অ্যাসিভমেন্ট’ বলে মনে করেন জিয়াউল হক পলাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *