নতুন নায়িকা নিয়ে ৭ দিন ধরে সাগর পাড়ে সাইমন

বিশাল সমুদ্র উপকূলে বিশাল জায়গা নিয়ে কক্সবাজারের শুঁটকিপল্লী। যে পল্লীর চারদিকে কাচা কিংবা শুটকি মাছের মৌ মৌ গন্ধ। শুটকির গন্ধ যারা নিতে পারেন না তাদের এখানে থাকাটা খুব একটা সুখকর হবে না। অথচ এমন একটি পল্লীতেই টানা সাত শুটিং হলো ‘জলরঙ’ নামে একটি ছবির।

সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি এই সাতদিন শুটিংয়ে অংশ নেন চিত্রনায়ক সাইমন। এই ছবিতে তার নায়িকা হিসেবে আছেন নবাগত উষ্ণ হক। তিনিও নায়কের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করলেন শুটিং। শুধু নায়ক নায়িকা নয়, ‘জলরঙ’ এর পুরো টিমই শুটিং করেছেন এখানে।

ছবিটি পরিচালনা করছেন অপূর্ব রানা। তিনি জানালেন, গল্পের প্রয়োজনেই এসব জায়গায় শুটিং হচ্ছে। সবাই পরিশ্রম করে শুটিং করছেন গল্প সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রযোজক দোলোয়ার হোসেন দিলু ‘জলরঙ’ সিনেমার জন্য অনুদান পেয়েছেন ৬০ লাখ টাকা। নদীপথে মানব পাচার ও পাচার হওয়া মানুষের পরিবার ও তাদের দূর্দশনার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই ছবি।

এখানে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাইমন বলেন, ‘শুটকিপল্লীতে এবারই প্রথম শুটিং। কক্সবাজারের যে রুপ মানুষ দেখে থাকেন তার বাইরেও অনেক জায়গা আছে। যে জায়গার মানুষগুলোর বিবর্ণ গল্প আছে। সেইসব এলাকার একটি শুটকিপল্লী। এখানে শুটিং করা কিন্তু খুব একটা সুখবর নয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এসব জায়গায় শুটিং করতে হচ্ছে। আমি যেহেতু জেলের চরিত্র করছি। তাই এসব জায়গায় শুটিং করতেই হবে। নিজের চরিত্রে বিন্দু মাত্র ছাড় দিচ্ছি না। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শুধু আমি না এই ছবির পুরো টিমই গত সাতদিন ধরে কষ্ট করে যাচ্ছে।’

সাধারণত এই শুটকিপল্লীতে ভোর রাত থেকেই এখানে শুরু হয় কর্মতৎপরতা। গভির সমুদ্র থেকে আসতে থাকে মাছভর্তি ট্রলার। আর এই এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এই কাজের সাথে যুক্ত। এখানকার সব পরিবারের একটাই কাজ শুঁটকি উৎপাদন। পরিবারের সব সদস্যই কোন না কোন ভাবে এই কাজে সহযোগিতা করে। বিশেষ করে নারীরা শুঁটকি উৎপাদনের প্রতিটা পর্যায়ে সরাসরি কাজ করে।

এই মাঝধরা নৌকায় করে নায়ক সাইমনও ছুটছেন মাঝ সমুদ্রে। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে সমানতালে তিনিও মাঝ ধরছেন। সাইমন বলেন, ‘আপনার সঙ্গে যখন কথা বলছি তখন আমি মাঝ সমুদ্রে। জায়গাটার নাম আমি বলতে পারছি না। মোবাইলের নেটওয়ার্কও ঠিকমতো নেই। পুরো নৌকাভর্তি সাধারণ মানুষ। নৌকায় আমার সঙ্গে যে সহশিল্পীরা কাজ করছেন তাদের সবাই এখানকার স্থানীয় জেলে।’

আগামী ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুটিং চলবে এখানে। এরপরই ক্যামেরা ক্লোজ হবে ‘জলরঙ’ এর। ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতার গল্প শোনালেন নায়িকা উষ্ণ হক। তিনি বলেন, ‘এ অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সবাই খুব কষ্ট করে অভিনয় করছেন। এখানে টানা শুটিং করে আমার চেহারাই বদলে গিয়েছে। সব কিছু্ কিন্তু করছি ভালো একটি সিনেমার জন্য। আশা করি ছবিটি ভালো কিছু হবে।’

সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খালেদা আক্তার কল্পনা, রাশেদা, মাসুম আজিজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, শহিদুল আলম সাচ্চু, জয়রাজ, বড়দা মিঠু, রাশেদ মামুন অপু, পারভেজ সুমন, শরীফ চৌধুরী, কমল পাটেকর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *