বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে চিত্রনায়িকা নিপুণ আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জায়েদ খান।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এ আলাপকালে এ কথা বলেন।
জায়েদ বলেন, ‘‘সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে বসা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ওই পদে ‘স্থিতাবস্থা’ দিয়েছেন আদালত। ১৩ তারিখ পর্যন্ত আদালত ‘স্থিতাবস্থা’ দিয়েছেন, তারা কি এর মানে জানে না?’’
বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তারা কি আইন কানুনের উর্ধ্বে চলে গেছে? এটা কিসের বহিঃপ্রকাশ? ক্ষমতা? কোন ক্ষমতা বলে নিপুণ এসব করছেন, যারা সাধারণ মানুষ তারা একটু ভাবলেই বুঝবেন গায়ের জোরে এসব করা হচ্ছে, যেমনভাবে শত শত বহিরাগত এনে কথিত আপিল বোর্ড বানিয়ে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন নিপুণ। ’
জায়েদ বলেন, ‘ওই আপিল বোর্ডের নির্দেশনা আর একজন সাধারণ মানুষের নির্দেশনা একই ব্যাপার। যাই হোক আদালত একটা বিষয় নিয়ে আদেশ দিয়েছেন তারা সেটা মানছেন না। বুঝলাম না তারা কি আদালতের আদেশ বোঝেন না? আমি আর বিষয়ে কথা বলবো না, মহামান্য আদালত যা বলার বলবেন।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার নিপুণের মোবাইলে ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে জায়েদের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘জায়েদ খান ভাইয়ের রিটের রায় স্থগিত করেছে। ফলে নিপুণ আপু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কারণ জায়েদ ভাইয়ের রিটের আগে আপিল বোর্ডের রায়ে আপুই সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। আমরা সেই পুরনো রায়ই মেনে নিয়ে অফিস করছি। ’
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চেয়ারে বসেছেন নিপুণ আক্তার। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, সহ সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনূরসহ অনেকে।
এদিন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠনের নেতারা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বরণ করে নিয়ে নিপুণকে মিষ্টি মুখ করান। এসময় নিপুণের টেবিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেম প্লেটও দেখা যায়। পরে অভিনেত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনূরের জন্মদিনও পালন করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এই নির্বাচন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ভোটের আগেই দুই পক্ষের কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। ভোটগ্রহণের পরদিন ভোরে ফল ঘোষণা করে সমিতির নির্বাচন কমিশন।
২০২২-২৪ কার্যকরী পরিষদের এ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিশা সওদাগরকে হারান ৪৩ ভোটে।
সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি প্যানেল থেকে লড়াই করেন জায়েদ খান ও নিপুণ। জায়েদ খান ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর নিপুণের পক্ষে ভোট পড়ে ১৬৩টি।
ভোটে সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ভোটের সময় নিপুণ তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন তিনি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে ভোট বাতিল দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি। তার কাছে পীরজাদা হারুন ভোটের দিন চুমু চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন নিপুণ। অবশ্য হারুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ। সমিতির আপিল বোর্ড জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে।
এরপর পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন জায়েদ খান। হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানিতে তার প্রার্থিতা বহাল রেখে এ পদে তাকে জয়ী করলে নিপুণের পদ বাতিল হয়ে যায়।
পরে বুধবার নিপুণ আবার আবেদন জানান সর্বোচ্চ আদালতে। এ সময় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে নিপুণের আপিলটি ফুল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার জজ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রোববার এ বিষয়ে শুনানি হবে। ওই দিন পর্যন্ত শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান বা নিপুণ কেউই থাকছেন না।
