পরীমণির সিনেমায় গান লিখলেন ড. জাফর ইকবাল

তরুণ নির্মাতা আবু রায়হান জুয়েলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এটি। ছবিটিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন নায়িকা পরীমনি ও নায়ক সিয়াম আহমেদ। ইতোমধ্যে ছবিটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন কেবল মুক্তির অপেক্ষায়।

এদিকে মুক্তির আগেই নতুন এক খবর দিলেন নির্মাতা আবু রায়হান জুয়েল। ছবিটিতে একটি গান লিখেছেন প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। এরআগে কখনো তিনি কোন গান লিখেননি।

পরিচালক বলেন, গল্পে একটি দৃশ্যে বাচ্চাদের গোসলের দৃশ্য রয়েছে। স্যারকে বলেছিলাম, স্যার এখানে বাচ্চাদের গোসলের দৃশ্যে তাদের একটা গান ডিম্যান্ড করে। উনি বলেছিলেন, যেটা ভালো হয় করো। তখন বলেছিলাম, স্যার লিখে দেন।

পরিচালক আবু রায়হান জুয়েলের ভাষ্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে কথোপকথন ছিল এমন, স্যার বলেছিলেন, আমি কখনও গান লিখি নাই। তবে দেখি কবিতার মতো কিছু একটা লেখার চেষ্টা করি। পছন্দ হলে নিও। নইলে অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিও। স্যার লিখে পাঠানোর পর সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরীকে দেই। উনি মিউজিক করার পর সুপার মনে হয়েছে।

”আমাদের ছবির উপদেষ্টা এবং টিম সদস্যরাও গানটি শুনে প্রশংসা করেন। তবে স্যার সন্দিহান ছিলেন গানটি আদৌ ভালো হয়েছে কিনা! শুটিং করে গানটি ভিডিও আকারে স্যারকে মেইলে পাঠাই। তিন মিনিট পরেই স্যার কল ব্যাক করে খুশী হয়ে মজা করে আমাকে বলেন, তোমাকে মাইর দেয়া উচিত। গান তো অনেক সুন্দর হয়েছে। তোমার ম্যাডামকে নিয়ে দেখলাম।”

গানটির নাম ‘আয় আয় সব তাড়াতাড়ি, সাবান পানি ঢেলে তাড়াতাড়ি’। সংগীত পরিচালনায় পাশাপাশি এ গানের সুর করেছেন ইমন চৌধুরী। এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন, ১০জন নতুন শিশু শিল্পী। পরিচালক বলেন, গানের ভিডিওতে ১৪ জন শিশু আছে।

এদিকে, লেখক ও পুলিশ সুপার দেওয়ান লালন আহমেদের লেখা ‘দ্যাখো, সারেং ছাড়া জাহাজ চলে কার ইশারায়, কিসের বলে…’ এমন লেখা আরেকটি গানে কণ্ঠ দিলেন বাউলশিল্পী শফি মণ্ডল। সুর করেছেন ইমন চৌধুরী। গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করা হয়েছে।

পরিচালক আবু রায়হান জুয়েল বলেন, পোস্ট প্রডাকশনের একেবারে শেষের দিকের কাজ চলছে। মার্চেই ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সেন্সরে জমা দেব।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারি অনুদান পায় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। ছবিটির সঙ্গে সহপ্রযোজনা করছেন বঙ্গ। ২০২০ সালের মার্চেই এ ছবির বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়। আরও থাকছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, মুনিরা মিঠু, কচি খন্দকার, আশিষ খন্দকারসহ বেশ কয়েকজন শিশুশিল্পী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *