ঢাকা- ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করা চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খানের ভিডিওটি অনলাইন থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া এই ভিডিও যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এস মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ নির্দেশ দেন।
ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে নিজ ফ্ল্যাটে বুধবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে কিছু সময় কথা বলার পর নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন মহসিন। খবর পেয়ে রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
যেখানে বসে লাইভে কথা বলছিলেন মহসিন খান, তার পাশেই একটি চিরকুট পেয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যার ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়া থাকেন। আমরা জানতে পেরেছি ধানমন্ডির বাসায় তিনি একা থাকতেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও লোকসান করেছেন। ২০১৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে জেনেছি। এসব কারণে হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশ ধারণা করছে।
জানা গেছে, ফ্ল্যাটের ভেতরে তিনি তার কাফনের কাপড়ও রেখে গেছেন। একটি কম্পোজ করা সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছেন।
মহসিনের স্ত্রীর বোন সম্পর্কে এক নারী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে তিনি বেশকিছু ডিপ্রেশন মূলক স্ট্যাটাস দিতেন। আমরা এসব বিষয় তোমার কাছ থেকে জানতে চাইতাম, আমরা উনাকে বলতাম আপনি একাতো নন। আপনার মেয়ে বনানীতে আর স্ত্রী ও ছেলে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে; তাদের ওখানে চলে যান। আমাদের এসব কথা উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, কী আর বলবো তোদের, একা থাকার কষ্ট তোরা বুঝবি না।
