ঢাকা- চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর ও মডেল মুশফিকা তিনার বাবা আবু মহসিন খানের মরদেহ যেখানে ছিল, তার পাশেই বেশ কিছু নোট পেয়েছে পুলিশ। সেগুলো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে তার লাইসেন্স করা পিস্তলটি। যেটির বৈধ কাগজপত্র তিনি নিজেই টেবিলের ওপর রেখে গিয়েছিলেন।
ফেসবুক লাইভে এসে আ ত্মহ ত্যা করা আবু মহসিন খানের লাশের পাশে রাখা ‘সুইসাইড নোটে’ লেখা ছিল- ‘ব্যবসায় ধস নেমে যাওয়ায় আমি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে অনেকের লেনদেন ছিল। কিন্তু তারা টাকা দেয়নি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।’
আরও পড়ুন-
শ্বশুরের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইলেন নায়ক রিয়াজ
একাই রান্না করে খেতেন মহসিন, ছিল না কোনো ড্রাইভারও!
৫৮ বছর বয়সী আবু মহসিন খান পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি থাকতেন ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর ভবনে নিজের ফ্ল্যাটে। গতকাল বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ওই বাসা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এ খবর দ্রুতই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে নায়ক রিয়াজ তার স্ত্রী তিনাকে নিয়ে বনানীর বাসা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের রিয়াজ বলেছেন, এ মৃত্যুর বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। পুলিশ তদন্ত করে যা পাবে, তার সঙ্গেই তারা একমত পোষণ করবেন।
বুধবার রাতে এই ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুলিশের রমনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে আবু মহসিন খান একাই ছিলেন। বর্তমানেও ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি। যে পিস্তল দিয়ে তিনি নিজের মাথায় গুলি চালিয়েছেন, সেটি তার নামে লাইসেন্স করা। টেবিলের ওপর ওই পিস্তলের লাইসেন্স কপি রাখা ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, ২০১৭ সালে মহসিন খানের ক্যান্সার ধরা পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পর ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তার দেনা-পাওনা ছিল। দেনাদাররা টাকা না দিয়ে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। এসব কারণে তিনি খুব হতাশ ছিলেন। তবে পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে এখনও আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়নি।
আবু মহসিন খানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবু মহসিনের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে তার মাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙতে হয়নি। ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় ড্রইং রুমে একটি টেবিল আছে। মহসিন খান একটি চেয়ারে বসে ছিলেন। মোবাইলে লাইভ চলছিল। তার মাথার ডান পাশে গু লি লেগেছে।
ভবনের কেয়ারটেকার মো. গোলাম রাব্বী বলেন, মহসিন খান ওই বাসায় একা থাকতেন। তার বাসায় কোনো কাজের বুয়া বা ড্রাইভার ছিল না। একাই রান্নাবান্না করে একাই থাকতেন। আবার অনেকসময় বাইরে থেকে খাবার আনাতেন। তার একটা প্রাইভেটকার আছে। সেটা তিনি নিজেই ড্রাইভ করতেন।
