বাংলা সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতোই ঘটনাটা ঘটলো। নায়কের কাছে হেরে গেলেন খলনায়ক। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ১৯১ ভোট পেয়ে নতুন সভাপতি হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মিশা সওদাগর পেয়েছেন ১৪৮ ভোট।
এরমধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্ব কাঁধে নিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বেশ কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা ১২ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে [বিএফডিসি] ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
৪২৮ জন ভোটারের এই সংগঠনটির ২০২২-২৪ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদন্ধিতা করে। প্যানেল দুটি হলো ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আক্তার এবং মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল। এতে ১৭৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল আছেন জায়েদ খান। তার প্রতিদ্বন্ধি নিপুণ পেয়েছেন ১৬৩ ভোট।
এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বহু আগে থেকেই বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যখন প্রকাশ হলো যে, ইলিয়াস কাঞ্চন নির্বাচন করবেন, তখন সেই উত্তেজনার পারদ আরও কয়েক ধাপ উপরে উঠে যায়। এরপর নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়েছে ততই গুঞ্জন শোনা গেছে যে, এবার বদল হতে পারে শিল্পী সমিতির সভাপতির চেয়ার। অবশেষে হলোও তাই।
এর আগে ১৯৮৯ সালে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সে বার তার প্যানেল থেকে সভাপতি হয়েছিলেন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। এরপর দীর্ঘ ৩২ বছর আর কখনও শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হননি তিনি। তবে বিদায়ী কমিটির সঙ্গে দুই মেয়াদে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে বর্তমান সময়ের শিল্পীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল।
এবারের নির্বাচনের আগে যখন বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর এবং জায়েদ খানদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করল, তখন তাদেরকে হটানোর জন্য একটি প্যানেল করার পরিকল্পনা করেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। তার সঙ্গে সভাপতি পদে শাকিব খান লড়বেন বলে প্রথমে গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু পরে শাকিব জানিয়ে দেন, তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
এরপর মাস খানেক আগে হঠাৎই ইলিয়াস কাঞ্চনের নাম শোনা যায়। পরে অভিনেতা নিজেও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, তিনি এবার সভাপতি পদে মিশা সওদাগরের বিপরীতে নির্বাচন করবেন। ইলিয়াস কাঞ্চন এও জানান, তার প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ আক্তারের অনুরোধে এবং শিল্পীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তিনি নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এলেন এবং জয়ও করলেন।
কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চনের এই জয়ের পেছনে কারণ কী? তিনি একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় একজন নায়ক। তার উপর আবার স্বভাবে নম্র, ভদ্র, মার্জিত। কথাবার্তায় শালিন। এছাড়া বহু বছর ধরে তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’ নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন। এটা সারা দেশের মানুষ জানেন। তেমনি জানেন চলচ্চিত্রের শিল্পীরাও। এসব জিনিসই তার জয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে, মিশা সওদাগর গত দুই মেয়াদে শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার সবাই চাচ্ছিলেন, নতুন এবং আরও যোগ্য কেউ বসুক এই চেয়ারে। তাই হয়তো নতুন অভিভাবক হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চনকেই বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পীরা।
‘বেদের মেয়ে জোছনা’ খ্যাত এই চিত্রনায়ক চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবম সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এর আগে নায়ক রাজ রাজ্জাক, খলিল উল্লাহ খান, আহমেদ শরীফ, আলমগীর, মাহমুদ কলি, মিজু আহমেদ, শাকিব খান এবং মিশা সওদাগররা বিভিন্ন মেয়াদে এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন।
