বিনোদন ডেস্ক- মা-বাবা হারিয়ে ছোট থেকেই শুরু যার জীবনযুদ্ধ, কর্মক্ষেত্রেও নিজেকে প্রমাণ করতে তাকে কম যুদ্ধ করতে হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে এসেছে নানা বিতর্কের ঝড়। সেই বিতর্কের মধ্যে একটি হল একাধিক বিয়ে। নায়িকা হওয়ার আগে তিনি দুটি বিয়ে করেন। নায়িকা হওয়ার পর করেছেন আরও দুটি।
এই নায়িকার নাম জড়িয়েছে মা দ ক-কাণ্ডেও। জেলেও দিন গুজরান করতে হয়েছে। ভরা আদালতে কেঁদে ফেলেছেন, কিন্তু হার মানেননি। সেই আদালতই তাকে জামিন দিয়েছে, ফিরিয়ে দিয়েছে বাজেয়াপ্ত করা জিনিসপত্র।
তারপর আবার তিনি শুটিং ফ্লোরে ফিরে নিজের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ শুরু করেছেন। জীবনে এত চড়াই উতরাই, এত আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক বাংলাদেশি আর কোনো নায়িকারই নেই। বলছিলাম চিত্রনায়িকা পরীমনির কথা।
গত কয়েকদিনে ফের চর্চায় নায়িকা। এবার তাঁর পঞ্চম বিয়ের খবরকে ঘিরে। গত ১০ই জানুয়ারি পরীমনি সকলকে অবাক করে দিয়ে ঘোষণা করেন মা হতে চলেছেন তিনি।
প্রথমে তো এই খবরকে সত্য বলেই বিশ্বাস করতে পারছিল না কেউ, পরে জানাজানি হয় পুরো ঘটনা। গত বছর অক্টোবরেই মাত্র ৭ দিনের প্রেমিক শরীফুল রাজকে বিয়ে করেন পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে এক আদর্শ মনের মানুষের অপেক্ষায় ছিলেন পরীমনি। অবশেষে বোধহয় পরীর খোঁজ শেষ হল।
রাজের আগমন আদ্যোপান্ত বদলে দিয়েছে পরীমনির জীবন। তাই তো মাত্র তিন মাস সংসার করেই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন পরীমনি। আপতত কেরিয়ারে অল্প বিরাম।
গত সপ্তাহেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন রাজ-পরী। শনিবার ঢাকার বনানীর বাড়িতে বসেছিল পরীমনি ও রাজের বিয়ের আসর। মাত্র ১০১ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সারলেন পরীমনি। সিনেমার সেটে দেখা, সেখানেই প্রেম আর বিয়ে- সেই বিয়েতে হাজির ছিল না পরিবারের কেউ। তাই সবার আর্শীবাদ নিয়ে ফের একবার নতুন সফর শুরু করলেন হবু বাবা-মা।
রাজের আগমনে পরিপূর্ণ পরীমনির জীবন। এক সাক্ষাত্কারে অভিনেত্রী বলেছেন, ‘জীবনটা এখন দুটো প্রাণের মাঝে ভাগ হয়ে গেছে, একটা রাজ আর একটা আমাদের সন্তান যে আসছে।’
স্বামীকে নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আবেগে ভরপুর পরীমনির কন্ঠ। তিনি যোগ করেন, ‘রাজ একটা ম্যাজিক। তাকে পেয়ে মনে হয়, আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান। আর বাবা হিসাবে সে ভালো বাবার সারিতেই থাকবে।’
উল্লেখ্য, অভিনেতা রাজের সঙ্গে মিশে প্রথম থেকেই পরী বুঝে গিয়েছিলেন, রাজই সেই জীবনসঙ্গী যার সঙ্গে তিনি সারাজীবন কাটাতে পারেন। অক্টোবরে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ছবি ‘গুনিন’ ছবির সেটে দেখা হয় তাদের। সেখান থেকেই শুরু প্রেম। মাত্র সাত দিনের মাথায় দুই পরিবারকে জানিয়ে রাজের বাড়িতে ১৭ অক্টোবর বিয়ে করেন রাজ ও পরী।
