নজর২৪ ডেস্ক- শুক্রবারের সূর্যটি পশ্চিমাকাশে ডোবার সঙ্গে বিদায় হবে ঘটনাবহুল ২০২১ সাল। সকালে শুরু হবে নতুন বছরের সূর্যোদয়। সূর্য ডোবার এ রাতেই পৃথিবীর হালখাতা থেকে স্মৃতি হয়ে যাবে ২০২১ সাল নামের আরও একটি বছর। পথচলা শুরু হবে ২০২২ সালের। বিদায় বেদনার মাঝেও ৩৬৫ দিনের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব পেছনে ফেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় ৩১ ডিসেম্বর রাতে পালন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট।
করোনা মহামারি ও রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বেশ কয়েক বছরের মতো এবারও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না কক্সবাজার সৈকতে। কিন্তু নিয়মরক্ষায় তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, সায়মন বিচ রিসোর্ট, কক্স-টু-ডে এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম আয়োজন করছে। হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক ও বিশেষ মেহমান ছাড়া এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের শরীক হওয়ার সুযোগ নেই।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে পর্যটন নগরী কক্সবাজার লোকারণ্য হয়ে ওঠে। গত দেড় দশক এমন চিত্রই দিয়েছে বালিয়াড়ি। এবারও থার্টি ফার্স্ট এবং বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিথি ও স্থানীয় মিলিয়ে কয়েক লাখ পর্যটক সমাগম হবে। তবে কোনো আয়োজন না থাকায় এবারও থার্টি ফার্স্ট নাইট বা নতুন বর্ষবরণকে ‘প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন পর্যটকরা।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘একদিকে সাপ্তাহিক ছুটি, অন্যদিকে থার্টি ফার্স্ট নাইট। নতুন বর্ষবরণে অতীতের মতো কক্সবাজারের পর্যটকে ভরে উঠেছে। যদিও গত কয়েকদিনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পর্যটন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পেয়েছে পর্যটকরা। এরপরও গ্রুপ ও পরিবার নিয়ে এসেছে অনেক পর্যটক। শুক্রবারও অনেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ট্যুর অপারেটর সমিতির সদস্য ইয়ার মুহাম্মদ বলেন, ‘বিজয় দিবস হতে চলমান সময়ে কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট শুক্রবার আর শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটি। এসময় পর্যটকে ভরপুর থাকবে কক্সবাজার। সমানতালে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, ইনানি, হিমছড়িসহ পুরো জেলার পর্যটন স্পটে পর্যটক উপস্থিতি থাকবে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোনো আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। পাশাপাশি রাত ১২টার পর উচ্চস্বরে মাইক কিংবা সাউন্ডবক্স বাজানোও নিষেধ। থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা শুরু হয়ে অব্যাহত থাকবে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
