নজর২৪, গাজীপুর- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাহেব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত করছেন। বঙ্গভবনে নিয়ে একটি ভালো নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করে কী করবেন? নির্বাচন কমিশন তো কাজই করতে পারে না যতক্ষণ আওয়ামী লীগ থাকে। বুকে সাহস থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখান।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজীপুর শহরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রায় ১৫ বছর পর গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। দুই কোটি টাকার মামলায় তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতারা ৪২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মুক্ত বাংলাদেশের জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার জন্য নয়। আমাদের অধিকারগুলোকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য, হরণ করার জন্য যুদ্ধ করিনি। আমরা যুদ্ধ করেছিলাম বহুদলীয় গণতন্ত্রের মধ্যে আমরা বাস করব এজন্য। কিন্তু তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আবেগ দিয়ে, স্লোগান দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। আগে আমাদের সুশৃঙ্খলভাবে দল তৈরি করতে হবে। আমাদের মধ্যে যদি শৃঙ্খলা না থাকে তাহলে যুদ্ধে জয় লাভ করা যাবে না। আমাদেরকে বড় আন্দোলনের জন্য, কঠিন আন্দোলনের জন্য ত্যাগ স্বীকারে তৈরি থাকতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আজকের সংকট তো শুধু দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নয়, বিএনপির নয়, তারেক রহমানের নয়, এই সংকট সমস্ত জনগণের।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে চালের দাম ৭০ টাকা। যেখানে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা ছিল। বিনা পয়সায় সার দেওয়ার কথা ছিল। এখন তিনগুণ দাম বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়। শিল্প কারখানার শ্রমিকরা যে বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চলে না। আজকে এই সরকারের আমলে যারা বড় লোক তারা আওয়ামী লীগ করে, আওয়ামী লীগের তোষামদি করে। আর সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। দারিদ্র্যসীমা আগের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পায় না, সরকারি হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা নেই, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে পকেট কেটে টাকা রাখা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ কে এম মিলনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট ফজলুর রহমান, ইশরাক হোসেন, হাসান উদ্দিন সরকার, হুমায়ুন কবির খান, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, সালাউদ্দিন সরকার, সাইফুল আলম নিরব, ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. মাজহারুল আলমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা জড়ো হন সমাবেশে।
