সেই আসপিয়ার চাকরির ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নজর২৪ ডেস্ক- স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় পুলিশে নিয়োগ জটিলতায় পড়া বরিশালের আসপিয়া ইসলাম কাজলকে (১৯) সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ ও চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

নির্দেশনা পেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আসপিয়ার জন্য ঘর নির্মাণে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বকুল চন্দ্র কবিরাজকে সরকারি জমি খুঁজতে বলেছেন।

 

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এতথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া স্যার শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ফোন দেন। তিনি বলেন, আসপিয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আসপিয়া যাতে কনস্টেবল পদে চাকরি পেতে পারে সেজন্য সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আসপিয়ার জন্য জমির স্থান নির্ধারণ করতে হিজলার ইউএনওকে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসপিয়ার জন্য ঘর নির্মাণ সম্ভব হবে।’

 

জানতে চাইলে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, ‌‘আসপিয়ার জন্য ঘর নির্মাণে বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাসজমি ঘুরে দেখেছি। উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নে কয়েক শতাংশ জমি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জেলা প্রশাসক স্যারের মতামত পেলে কাজ শুরু হবে।’

 

এদিকে পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, আসপিয়া ইসলাম কাজল যাতে পুলিশ কনস্টবল পদে চাকরি পেতে পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

আসপিয়া ইসলাম কাজলের জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মাতব্বর বাড়ির বাসিন্দা।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাতব্বর বাড়ির মেজবাহউদ্দিন অপু চৌধুরীর বাড়িতে থাকেন স্বপরিবারে। তার পিতা মৃত শফিকুল ইসলাম ভোলা জেলার চরফ্যাশন নিজের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে হিজলা উপজেলায় এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি ব্যবসা করতেন।

 

বড় জালিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ঝন্টু বেপারি বলেন, আসপিয়াকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। ওর বাবা সৎ মানুষ ছিলেন। কিন্তু ৫-৭ বছর আগে রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। এর পরই ওই পরিবারটি অসহায় হয়ে পরে। আসপিয়ার এক চাচা ইঞ্জিনিয়ার। সম্ভবত দাদাবাড়ির সঙ্গে ভালো সর্ম্পক নেই। তবে দাদা বাড়িতে ওরা বেশ জায়গা-জমি পাবে বলে জানিয়েছিলেন তার পিতা শফিকুল।

 

এই জনপ্রতিনিধি বলেন, শফিকুল আমার সঙ্গে আলাপ করে হিজলায় জমি কিনে ঘর তুলবে বলে সব ঠিক করেছিল। এমনকি জমিও পছন্দ করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় সব তছনছ হয়ে গেছে। ঝন্টু বেপারি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও তাকে চাকরিটি দেওয়া উচিত। ওরা তো এই দেশেরই নাগরিক।

 

প্রসঙ্গত, পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে বরিশাল জেলায় ১০ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুলিশ সদর দপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল জেলা থেকে টিআরসি পদে ৭ নারী ও ৪১ পুরুষ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হিজলা থেকে অনলাইনে আবেদন করেন আসপিয়া ইসলাম। ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

 

২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলেও কৃতকার্য হন। ২৪ নভেম্বর পুলিশ লাইন্সে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হন আসপিয়া। ২৬ নভেম্বর পুলিশ লাইন্সে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে কৃতকার্য হন আসপিয়া।

 

তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে নিয়োগ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। কারণ তিনি বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন। এই নিয়োগ পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল— জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বুধবার হিজলা থানার এসআই মো. আব্বাস ভেরিফিকেশনে আসপিয়াকে বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *