মা-মেয়ের সংগ্রামের কথা শুনে প্রকাশ্যে কাঁদলেন বিচারক প্রতীক হাসান

বিনোদন ডেস্ক- নিয়ম অনুসারে স্বাভাবিকভাবেই কিশোরী রেশমা উঠল প্রতিযোগিতার মঞ্চে। তার পরনের জামাটি দেখেই বিচারকের আসনে বসে থাকা প্রতীক হাসান বুঝতে পারলেন, এটা মেয়েটার মায়ের শাড়ি দিয়ে বানানো জামা। মঞ্চে ওঠার পর সঞ্চালক জানতে চাইলে মেয়েটিও একই কথা বলে।

 

এরপর ‘তোমার ভুবনে হাসির মেলা আমি কাঁদি অসহায়’ গানে মুগ্ধতা ছড়ান রেশমা। মুগ্ধ হয়ে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিলেন বিচারক ইবরার টিপু, প্রতীক হাসান ও পড়শী। রেশমার পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার ঘোষণায় গল্পটা শেষ হতে পারত এখানেই।

 

কিন্তু না, বোকা বাক্সের সামনে বসে থাকা দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিল অভাবনীয় এক মুহূর্ত। রেশমার পারফর্মেন্সের শেষে মঞ্চে ডাকা হয় তার মাকে। তিনি উঠে জড়ানো কণ্ঠে শোনালেন অসামান্য সংগ্রামের কথা। রেশমার মা জানান, তার স্বামী ছিলেন সেনাকর্মকর্তা। কিন্তু মেয়ে যখন ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী, তখনই এক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারান তিনি। এরপর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তার জীবন যুদ্ধ।

 

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রেশমা এখন আরটিভির রিয়্যালিটি শো ‘ইয়াং স্টার’-এর প্রতিযোগী। অডিশন রাউন্ডে অসাধারণ গায়কী উপহার দিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। তাই মায়ের মুখে হাসি, চোখে খুশির কান্না।

 

এই ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। ফিরে গেলেন তার ফেলে আসা শৈশবে। বাবা খালিদ হাসান মিলুর মৃত্যুর পর অনিশ্চিত ভবিষ্যত আর দুঃখের সাগরে ডুবে যান প্রতীক হাসান ও তার পরিবার।

 

খালিদ হাসান মিলু ছিলেন তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। কিন্তু অসুস্থতার কারণে জমানো সব অর্থ খরচ হয়ে যায়। তবুও জীবনের আলোয় ফিরতে পারেননি। চলে যান না ফেরার দেশে। তখন প্রতীক হাসান, তার ভাই প্রীতম হাসান ও তাদের মা পার করেছিলেন দুঃসহ সময়। জীবনের টানাপোড়েন কেমন হয়, তা হাড়ে হাড়ে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তারা।

 

‘ইয়াং স্টার’-এর রেশমা ও তার মায়ের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনে প্রতীক যেন নিজেকেই খুঁজে পেলেন। তাই মাইক্রোফোন হাতে নিয়েও খুব বেশি কিছু বলতে পারলেন না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদলেন সবার সামনেই।

 

কান্না চেপে প্রতীক হাসান বলেন, ‘সশ্রদ্ধ সালাম জানাই সেইসব মাকে, যারা সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। এবং এই পর্যায়ে পর্যন্ত নিয়ে এসে তাদের সংগীতশিল্পী গড়ে।’

 

সোহাগ মাসুদের প্রযোজনায় মিউজিক্যাল এই রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার প্রতিযোগী আবেদন করেন। এর মধ্য থেকে নিয়ম অনুযায়ী মোট পাঁচ হাজার প্রতিযোগীর গান রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহণ করা হয়।

 

পরবর্তীতে ‘ইয়াং স্টার’-এর তিন বিচারক ইবরার টিপু, প্রতীক হাসান ও পড়শি যাচাই-বাছাই করে স্টুডিও অডিশন রাউন্ডের জন্য মোট ১৫০ জনকে আমন্ত্রণ জানান। নির্বাচিত ১৫০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে রাজধানীর তেঁজগাও-এ অবস্থিত আরটিভির নিজস্ব স্টুডিও বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ায় শুরু হয় অডিশন রাউন্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *