ওদের মুখ দেখবো না, তাই আদালতে যাচ্ছি না: আবরারের মা

নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হ ত্যার দুই বছর দুই মাস পর রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। রোববার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে।

 

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পি টি য়ে হ ত্যা করে। আলোচিত এ হ ত্যা মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চায় আবরারের পরিবার।

 

আদালতে উপস্থিত থেকে এ রায় শুনবেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ। ছেলে হ ত্যার রায় শুনতে এদিন আদালতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আবরারের মা রোকেয়া খাতুনেরও। তবে শেষমুহূর্তে তিনি আদালতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় বসে শনিবার (২৭ নভেম্বর) এ কথা জানান স্কুলশিক্ষিকা রোকেয়া খাতুন।

 

রায় ঘোষণাকালে আদালতে না থাকার কারণ জানতে চাইলে আবরারের মা বলেন, ‘ওদের (আসামিদের) মুখ আমি দেখতেই চাই না, তাই আদালতে যাচ্ছি না।’

 

রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘ওদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খু ন-খারাবি চলতেই থাকবে। আজ আমার ছেলে গেছে, কাল আরেকজন মায়ের কোল খালি হবে। আমার মতো যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কষ্ট পেতে না হয়।’

 

পরক্ষণেই হয়তো রোকেয়া খাতুনের চোখে ভেসে ওঠে ছেলে আবরারকে নি র্ম ম-নি র্দ য়ভাবে পি টি য়ে হ ত্যার সেই দৃশ্য। অজান্তেই ঢুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি। বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে ওরা গু লি করেই মেরে ফেলতে পারতো। তাহলে ওর হয়তো এতোটা কষ্ট হতো না।’

 

চোখ মুছতে মুছতে এবার কিছুটা দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অবশ্য এ মামলায় আরও কয়েকজনের নাম আসা দরকার ছিল। যারা আশপাশের রুমে ছিল, আবরারকে মারার খবর জেনেও কাউকে বলেনি; তাদেরকেও এ মামলায় আসামি করা উচিত ছিল। একটা ছেলেকে এমনভাবে মারা হলো, যারা জানলো তারাও চোখ বুজে থাকলো, এটাও তো অপরাধ।’

 

এদিকে, ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ রায় ঘোষণাকালে উপস্থিত থাকার জন্য শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় এসেছেন আবরারের বাবা ও ছোটভাই। রাতে তারা ঢাকায় পৌঁছান।

 

ঢাকায় পৌঁছানোর পর আবরারের ছোটভাই ফাইয়াজ বলেন, ‘ভাইয়ের হ ত্যা মামলার রায় শুনতে আব্বার সঙ্গে ঢাকায় এসেছি। আমাদের সঙ্গে পরিবারের আরও অনেকেই ঢাকায় আছেন। আমরা সব আসামির সর্বোচ্চ শা স্তি মৃ ত্যু দ ণ্ড প্রত্যাশা করি।’

 

গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ ধার্য করেন। মামলাটিতে মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। গত ১৩ জানুয়ারি আবরার হ ত্যা মামলার নথিটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত। এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ পাঠানোর আদেশ দেন।

 

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদকে পি টি য়ে হ ত্যার ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

 

অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ১৯ জন। এছাড়া তদন্তে আরও ছয় জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর তিন জন পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

 

চার্জশিট ভুক্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু।

 

চার্জশিট ভুক্ত পলাতক তিন আসামিরা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ ।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পি টি য়ে মেরেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *