নজর২৪ ডেস্ক- বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া পাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু সড়ক-পরিবহন-মালিক-শ্রমিকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত করে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া পাসের বিষয় নিয়ে শনিবার (২৬ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টা থেকে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে বিআরটিএসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কিন্তু বৈঠকে হাফ ভাড়া পাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কী কী কারণে বা কী উপায় হাফ ভাড়া পাসের দাবি পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয় বৈঠকে। বাসে হাফ ভাড়া পাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠনসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ঢাকার ৮০ শতাংশ বাস মালিক গরিব। একটি বাস দিয়ে নিজের সংসার চালায় কেউ কেউ। তারা কীভাবে ক্ষতি সামলাবে।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকও। কিন্তু আগে অনেকগুলো বিষয়ে সমাধান করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সমাধানের মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। নতুন যে যেসব প্রস্তা এসেছে এগুলো নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কারা শিক্ষার্থী আর কারা শিক্ষার্থী নয় এ বিষয়েও জটিলতা রয়েছে জানিয়ে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বাসে উঠে সবাই বলবে আমরা ছাত্র। অনেকে এ সুবিধা নেওয়ার জন্য নতুন করে আইডি কার্ড বানিয়ে নেবে। সরকার এটার সমাধান কীভাবে করবে সেটাও দেখতে হবে। সবগুলো বিষয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় মহাসচিব প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি পরিবহন ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া কমানোর বিষয়ে বিআরটিএ অত্যন্ত আন্তরিক। বৈঠকে বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠনসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতারা আন্তরিক। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ করা হবে? তাদের ক্ষতির জন্য কত ভর্তুকি দেওয়া হবে এসব সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবার বৈঠক হবে। আমরা আবারও বৈঠক করব। যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তার জন্য চেষ্টা করা হবে।’
তিনি জানান, বৈঠকে ঢাকায় কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কতজন ছাত্র, এদের মধ্যে কতজন বাসে উঠে এসব বিষয়ে তালিকা চেয়েছেন পরিবহন নেতারা। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারা তথ্য দেবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহণে হাফ পাশ (অর্ধেক ভাড়া) চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাস মালিক সমিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত সভা কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
ওই বৈঠকে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু সরকার বেসরকারি বাসে ভর্তুকি দেয় না সেহেতু ভাড়া কম নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যানজটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা কমেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হাফ ভাড়া নিলে লোকসান গুনতে হবে।
