বিনোদন ডেস্ক- দুই বাংলার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। এবার অন্যরকম পুরস্কার পেলেন তিনি। কারণ অভিনয়ের জন্য নয়, পশুপ্রেমের জন্য ‘প্রাণবিক বন্ধু’ সম্মাননায় ভূষিত হলেন এই শিল্পী।
শনিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে জয়ার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
পশুপ্রেমের জন্য সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত জয়া আহসান। এ প্রসঙ্গে এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-
প ফাউন্ডেশনের এই সম্মান আপনার কাছে ব্যতিক্রম কেন?
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাকে কিছু সম্মাননা দিয়েছে। সেসব তাদের ভালোবাসার দান। কিন্তু প ফাউন্ডেশন যে কারণে দিল, সেটা আমার হৃদয়ের গভীরের একটা বিষয়। তাদের দেওয়া ‘প্রাণবিক বন্ধু’ সম্মাননায় আমি বিহ্বল। প্রাণের জন্য যেটুকু করেছি, মন থেকে করেছি। মানুষ হিসেবে প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায় জন্মগত। আমি চেয়েছি, মানুষ এ ব্যাপারে আরও সচেতন হোক।
লন্ডন থেকে ফিরলেন কবে?
মাত্র দুই দিন আগে ফিরলাম। প ফাউন্ডেশনের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই তাড়াহুড়ো করে ফেরা। ভ্রমণক্লান্তি এখনো কাটেনি। এই অনুষ্ঠান আমার জন্য জরুরি ছিল বলে চলে আসা। আমি সত্যিই এ কাজে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চাই। যাঁরা এসব নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের অর্থ, সময় দিয়ে বা নিজে খেটে সাহায্য করতে চাই।
ওখানে গিয়ে দেখলাম, বহু প্রাণীপ্রেমী উপস্থিত হয়েছেন। চারপাশে কত নৃশংসতা-নেতিবাচকতা দেখি, সেখানে গিয়ে দেখলাম ইতিবাচকতা। আমাকেসহ ১০ জনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকে যাঁর যাঁর জায়গা থেকে প্রাণীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ রকম যাঁরা আছেন, তাঁদের অনেকেরই অবস্থা আমাদের মতো নয়।
পশ্চিমবঙ্গে শ্রীলেখা মিত্রকে প্রায়ই কুকুর নিয়ে বিপত্তিতে পড়তে দেখা যায়। আপনার কখনো এ রকম হয়েছে?
কলকাতায় তিনি ঝামেলায় পড়েন, বাংলাদেশের অনেক প্রাণীপ্রেমীও ঝামেলায় পড়েন। আমার ফ্ল্যাটে কুকুর আছে বলে আমাকেও বহুবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ–সংক্রান্ত কোনো আইন আমাদের এখানে নেই। আইন করা দরকার। যাঁরা পশুপ্রেমী, তাঁরা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না যে এটা কী রকম খারাপ লাগা।
করোনার পর প্রাণ-প্রকৃতির ব্যাপারে মানুষ কি কিছুটা সচেতন হয়েছে?
হয়েছে। কিন্তু আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। আমরা ধীরে ধীরে পৃথিবীকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছি, সেটা অনেকটা মৃত্যুঘণ্টার মতো। যদিও আমরা সেটা শুনতে পাচ্ছি না। সাধারণ মানুষ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা—সবাই একত্রে সচেতনভাবে কাজ করলেই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা পাবে।
আমরা কেন ভুলে যাই যে শুধু মানুষ নিয়ে সমাজ নয়। প্রাণ-প্রকৃতি, জীবজন্তুও সমাজের অংশ। তাদের অবজ্ঞা করে আমরা বেঁচে থাকতে পারব না। ইচ্ছা হলেই গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট করা যাবে না, শহর সুন্দর করার জন্য কুকুর-বিড়ালকে শহর থেকে বের করে দেওয়া যাবে না। সমাজ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়। এখানে প্রতিটি প্রাণীর অধিকার আছে। প ফাউন্ডেশনের মতো আরও অনেকেই প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে। এখনকার তরুণেরা এ বিষয়ে অনেক সচেতন।
