বিনোদন ডেস্ক- দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। গত শুক্রবার (১২ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর ৭ প্রেক্ষাগৃহসহ দেশের মোট ১২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি।
বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হিসেবে কানের মূল মঞ্চে ডাক পাওয়া আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। চলতি বছরের জুন থেকেই সিনেমাটি ছিলো আলোচনায়। জুলাইয়ে কান উৎসবে দেখানোর পর আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে ছবিটি নিয়ে হয় বেশ প্রশংসা!
শুধু তাই নয়, কান উৎসবে দেখানোর পর ‘রেহানা’ এরইমধ্যে ঘুরে এসেছে মেলবোর্ন ফিল্ম ফেস্টিভাল, বিএফআই লন্ডন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল, হংকং এশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল, বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল, সিডনি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালসহ মোট ১৩টি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল থেকে।
সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘রেহানা’ অপেক্ষায় আছে সিঙ্গাপুরসহ আরও বেশ কিছু দেশে যাওয়ার। ইতিমধ্যে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মুকুটে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক সাফল্যের পালক। এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (অ্যাপসা) থেকে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ একসঙ্গে দুটি স্বীকৃতির প্রাপ্তির পর সম্প্রতি হংকং থেকে এসেছে আরেকটি সুখবর। হংকং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে সিনেমাটি।
সারা বছর ধরে আলোচনায় থাকা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের প্রধান রেহানা মরিয়ম। কিন্তু সেটি প্রধান হতে পারতো না যদি না থাকতো এ্যানি আর ইমুর মতো চরিত্র। একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করেই ছবির গল্প। কর্মস্থলে ও পরিবারে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাকে।
ছবিতে ইমু রেহানার মেয়ে আর এ্যানি তার ছাত্রী। এই দুই সম্পর্ককে নিয়েই দানা বাঁধে গোটা ছবির গল্প। তাই এই তিন চরিত্র নিয়ে সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশন আয়োজন করে ‘প্রশ্নগুলো সহজ’।
ছবিটির তিন চরিত্রকে নিয়ে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একাত্তর টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্পাদক শবনম ফেরদৌসী জানার চেষ্টা করেছেন, সহজ প্রশ্নের উত্তরগুলো।
এই ছবি নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠানে ছবিতে উঠে আসা সহজ প্রশ্নের সরল সমীকরণের আড্ডায় রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমার তিন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। শিশু শিল্পী জাইমার চরিত্র ভাবনার গল্প দিয়েই অনুষ্ঠানের শুরু হলেও এ্যানির মনোজগতের চড়াই উতরাইয়ের পথ ধরে রেহানা মরিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন সিনেমাটির আদ্যোপান্ত।
রেহানা মরিয়মের চরিত্রে অভিনয় করা আজমেরি হক বাঁধন বলেন, ‘আমাদের ডিরেক্টরের প্রধান লক্ষ্যই ছিলো, ছবির গল্পটিকে এমনভাবে এগিয়ে নেওয়া যাতে করে মনে হয়, এটি কোন নারী নয়, সব মানুষেরই গল্প। আমর ভালো লেগেছে যখন আমার এক পরিচিত জানালেন, ছবি দেখতে বসে মনে হয়নি এটি কোন নারীর গল্প, মনে হয়েছে নিজেরই গল্প দেখছি’।
আলোচনায় ছিল ন্যায় অন্যায় আর ব্যক্তি স্বাধীনতার হিসেব নিকেশ। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে এসে নারীর প্রতিবাদ যে কতটা চ্যালেঞ্জের তাও ছিল অনুষ্ঠানের কথোপকথনে।
এ নিয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমি মনে করি সব মানুষের একটা স্বাধীনতা আছে, অধিকার আছে যে কোন কিছুকে নিজের মতো করে ভাবার এবং নিজের মতো করে দেখার। আমি যদি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে চিন্তা করি তাহলে, আমার আপন ভাই আমার মতো করে কখনো চিন্তা করবে না। আমার সন্তান আমার মতো চিন্তা করবেন না। তাই কেন অন্যরা কে কি চিন্তা করছে, সেটা নিয়ে এতো কনসার্ন থাকবো’।
জীবন নিয়ে তরুণদের ভাবনার সীমাবদ্ধতা আর সত্য সুন্দরকে বেছে নেয়া প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েও কথা হয়েছে প্রশ্নগুলো সহজের আলোচনায়।
