নজর২৪ ডেস্ক- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে দেশব্যাপী চলছে পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা বাস ধর্মঘট। এমন বাস্তবতায় পরিবহন সংকট ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবির প্রেক্ষিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে আগামী রোববার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার জানান, ভাড়া বাড়াতে মালিকদের থেকে আবেদন পেয়েছি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার বৈঠক ডাকা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ বিষয়ক কমিটির সবাই থাকবেন। এই কমিটিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সব স্টেকহোল্ডার উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে বুধবার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে তা বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই সারা দেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার ভাড়া পুননির্ধারণের বৈঠকের আগে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে কি না সে বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. রুস্তম আলী খান বলেন, মালিক সমিতির কোন আলোচনা ছাড়াই সরকার এই মূল্য নির্ধারণ কয়েছে। কাজেই আগের দাম না রাখা পর্যন্ত ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, যে হারে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে তাতে পরিবহন চালানো সম্ভব নয়। হুট করে এই দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ধর্মঘট কেন
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাতে দেশেও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লিটারপ্রতি এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।
প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর সরকার জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করল। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছিল।
করোনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এতে গত অক্টোবরেই সরকার সোয়া ৭০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় ডিজেলে সরকার আর লোকসান দেবে না; বরং লিটারে দুই টাকার মতো মুনাফা করবে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
দেশে এর আগে কখনো এক লাফে এত বেশি হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি।
দাম বাড়ানোর পেছনে যুক্তি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমবর্ধমান। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করছে।
