৫০ বছর পর লন্ডনে বাবার রুমে হাসিনা-রেহানা

নজর২৪ ডেস্ক- স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংবাদ সম্মেলন আর যাত্রা বিরতির জন্য ইতিহাসের অংশ লন্ডনের হোটেল ক্লারিজের সভাকক্ষ। আর বিশ্রামের জন্য রুম নাম্বার ১১১। সংসদ সম্মেলনের সেই সভাকক্ষে ৫০ বছর পর তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা-শেখ রেহেনা-তাদের মেয়েরা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল আর রূপন্তি। সেখানেই উন্মোচন করা হলো, কেমন করে পাকিস্তানী গোয়েন্দারা রাতদিন নজর রাখতেন বঙ্গবন্ধুর ঘরে-বাইরে।

 

লন্ডনে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ফাদার অব দ্যা নেশন’ বইয়ের আন্তর্জাতিক সংস্করণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

 

‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট পুরো পরিবার হারানো দুই বোন আবারও পরিবার পেয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের ১৮টি বছর জেলে কাটানো বাবা শুধু নয়, পুরো পরিবার-অন্দরমহলে মায়ের যোগাযোগও তারা নজরদারি করার চেষ্টা করতো। বললেন, মায়ের গোয়েন্দাদের ফাঁকি দেয়ার ঘটনাও।

 

মুজিব নামে ছবি আর গল্পের আরকটি বইয়েরও একই দিনে মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই নথি তিনি খুঁজে পান। তারপর ২০ বছর সময় নিয়ে দিনের পর দিন বন্ধু সাংবাদিক বেবী মওদুদকে সাথে নিয়ে প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত করা হয় সিক্রেট ডকুমেন্টস।

 

একই সাথে ৫০ শিল্পীর আকা চিত্রকর্ম নিয়ে বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ওক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিটি চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন তিনি। ছবি তোলেন ছবি হয়ে যাওয়া বাবার সেই ছবির সাথে, যেখানে শিল্পী বঙ্গবন্ধুকে এঁকেছেন হোটেল ক্লারিজের সেই একই কক্ষে।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশিত ‘গোপন দলিল’ বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাস গবেষকদের জন্য হবে অমূল্য সম্পদ।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম সম্পর্কে প্রকৃত এবং সম্পূর্ণ ইতিহাস এই গোপন দলিলে পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের জনগণও বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

 

তিনি বলেন, ‘এই প্রকাশনা থেকে দেশের রাজনৈতিক নেতা ও নতুন প্রজন্ম শিক্ষা নিতে পারবে।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর এসব গোপন দলিল ও রেকর্ড তাদের সংগ্রহে রেখেছিল।’

 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাসে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড অনুসরণ করতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর জীবনের ৩ হাজার ৫৩ দিন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুই নয়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যাদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি করতো, তাদের সবাইকে, এমনকি তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকেও সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখতো।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর থেকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকতেন।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব গোপন দলিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রামের শুধু রেকর্ডই নয়, বরং এগুলো কীভাবে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হলো তারও ঐতিহাসিক দলিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এসব গোপন দলিল বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *