পরিবহন ধর্মঘটের প্রতিবাদে এবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

নজর২৪ ডেস্ক- একলাফে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার নিজেরাই মহাসড়ক অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের স্নাতক শ্রেণির ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা।

 

তাদের আকস্মিক এ কর্মসূচিতে যোগ দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সাত ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরাও। পরে একে একে তাদের সাথে একাত্মতা জানায় সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীরাও।

 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ডাকা ধর্মঘটে কলেজ ভর্তিচ্ছু এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা সকাল থেকেই বিপাকে পড়েছেন।

 

যানবাহন সংকটে আটকে পড়া কলেজ ভর্তিচ্ছু এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এক পর্যায়ে নিজেরাই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের অবরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় তারা প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে। সেইসঙ্গে সড়কের দু’পাশে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন।

 

বিক্ষোভের প্রসঙ্গে মিরপুর বাঙলা কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবরার হোসেন জানান, ভোর বেলায় তিনি ভর্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে আর কোন গাড়ি পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি রিকশায় করে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের এসে দেখতে পান তার মতো অনেকেই মহাসড়কে যানবাহনের অপেক্ষায়।

 

এদিকে আকস্মিক এই কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত পরিবহনে করে ঢাকা যাওয়ার পথে শিমুলতলা আটকে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, নিজেদের ব্যক্তিগত বাহন থাকলেও তিনি শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিকে সমর্থন করেন। তার ভাষায় নিজেদের ব্যক্তিগত যানবাহনে করে কেউ পরীক্ষার হলে যেতে পারবে আর পরিবহন ধর্মঘটে কেউ আটকে থাকবে- এটা হতে পারে না।

 

যানবাহন সঙ্কটের পাশাপাশি অবরোধের কবলে আটকে পড়ে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছোট ভাইকে নিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির কবলে পড়েন রফসান আহমেদ দামের একজন ব্যবসায়ী।

 

তিনি বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার যেমন হুট করে তেলের দাম বাড়িয়েছে তেমনি পরিবহন শ্রমিক-মালিকরাও পরিবহন যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ধর্মঘট ডেকে বসেছেন।

 

অন্যদিকে, বাবুল মিয়া নামে একজন পরিবহন মালিক জানান, করোনার ধাক্কায় গত প্রায় দুই বছরে তারা নাজুক অবস্থায় পড়েছেন। তেলের দাম বাড়ার ফলে একটি বাস থেকে প্রতিদিন গড়ে ২২’শ টাকা পাওয়া গেলেও, ভাড়া না পাওয়ার কারণে আয় কমে নেমে দাঁড়িয়েছে চৌদ্দ’শ টাকায়। ব্যাংকের কিস্তি, সরকারি ট্যাক্স টোকেন, রাস্তার চাঁদা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাড়িভাড়া সবকিছু মিলিয়ে জীবন চালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারণে যৌক্তিকভাবেই তারা পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছেন।

 

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সাথে সাথে সরকার ভাড়া বিন্যাস করলে এমন সংকট তৈরি হতো না। এ জন্য সরকারকেই দায়ী করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *