ইভ্যালির নতুন পরিচালনা বোর্ডে কে কত টাকা সম্মানি পাবেন?

নজর২৪ ডেস্ক- ইভ্যালি পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য চার সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের নতুন পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিও নির্ধারণ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বোর্ড গঠন করে আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে সম্মানি ঠিক করে দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম এর বেঞ্চ-এ পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বোর্ড গঠন-সংক্রান্ত লিখিত আদেশ দিয়েছেন।

 

পরিচালানা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। প্রতি বোর্ড মিটিংয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক বার্ষিক সাধারণ সভার জন্য ২ লাখ টাকা সম্মানি পাবেন তিনি।

 

বোর্ডের সদস্য সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ এবং এফসিএ ফখরুদ্দিন আহমেদ প্রতি বোর্ড মিটিংয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক সাধারণ সভার জন্য ১ লাখ টাকা করে সম্মানি পাবেন।

 

বোর্ডের অপর সদস্য ও এমডি অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবীর সরকারের কাছ থেকে বেতন এবং অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন (অবসরের পূর্ব পর্যন্ত)। তবে অবসরে যাওয়ার পর সবশেষ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বেতন অনুযায়ী ইভ্যালি তাকে বেতন নেবেন।

 

নতুন পরিচালনা পর্ষদকের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে

 

‘হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রথম সভায় আদালতের আদেশ সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করবেন। একইসঙ্গে তিনি ইভ্যালির অডিট রিপোর্টসহ মূল বিষয় এবং তাদের করণীয় বিষয়টি তুলে ধরবেন।’

 

‘বোর্ডের সদস্যরা কেপিএমজি এর রহমান হককে দিয়ে ইভ্যালির অডিট রিপোর্ট তৈরির করাবে। প্রতি অর্থবছরে ইভ্যালির আর্থিক লেনদেন, গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহের সময় ও ব্যয়, বর্তমানে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকে থাকা ইভ্যালির টাকা, ইভ্যালির সদস্য, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও বিগত বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি অডিটকারী কর্মকর্তাদের নাম নতুন করে অডিট রিপোর্টে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে বর্তমান পরিচালকগণ গ্রাহকদের থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সাবেক পরিচালকগণ কীভাবে করেছে তা খুঁজে বের করবেন এবং নিজেদের পর্যবেক্ষণ দিবেন।’

 

‘ইভ্যালির বর্তমান পরিচালকবৃন্দ যদি দেখতে পান, ইভ্যালির আর্থিক কার্যক্ষমতা ঝুঁকিতে রয়েছে, তাহলে তারা ইভ্যালির নিয়ন্ত্রক, কর্তৃপক্ষ, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাইবে। একইসঙ্গে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অতীতে পণ্য বিতরণে ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন কারণ বিবেচনায় নিয়ে ক্রেতাদের আবেদন অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বা আইন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের জন্য আবেদনগুলো বিবেচনা নেবেন।’

 

‘অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার পর ইভ্যালির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ড সদস্যদের নিয়ে সভা আহবান করবেন। সভায় অডিট রিপোর্ট ও অন্যান্য নথি যাচাই-বাছাই করবেন। যদি তিনি ইভ্যালি পরিচালনা অসম্ভব মনে করেন, তাহলে তিনি বোর্ড সদস্যদের কাছে কোম্পানিটির অবসায়নের বিষয়টি তুলে ধরবেন। এছাড়াও তিনি পরিচালনাপর্ষদের প্রথম সভায় সবার পরামর্শক্রমে প্রয়োজন মনে করলে নতুন করে কোম্পানিতে কাউকে নিয়োগ বা পুনঃনিয়োগ করতে পারবেন। একইসঙ্গে তিনি ইভ্যালির সকল সম্পদের দেখভাল করবেন।’

 

আদালত তার অন্য আদেশে ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনাপর্ষদের কাছে কোম্পানির নগদ টাকা, শেয়ার, ঋণপত্র, এফডিআর, চাবিসহ সব নথিপত্র বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

গ্রাহকদের জন্য আদালতের যে আদেশ
ইভ্যালির গ্রাহকদের উদ্দেশে আদালত বলেছেন, তারা চাইলে আদালতে আসতে পারে বা তাদের দাবিগুলো ইভ্যালির অফিসের মাধ্যমে সুরাহা করতে পারে। তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তারা বোর্ড বা ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে পারবেন না।

 

ইভ্যালির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতি আদালতের নির্দেশনা
কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়কে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

 

দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা
দুদক চেয়ারম্যানকে ইভ্যালির লেনদেন বা ব্যবসায় অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কোর্টের আদেশে গঠিত বোর্ডকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *