বিনোদন ডেস্ক- সমালোচিত গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলকে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর বিয়ে করেছিলেন মেহরুবা সালসাবিল। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি তাদের।
বিভিন্ন কারণে নোবেলকে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন মেহরুবা সালসাবিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন সালসাবিল। বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।
সালসাবিল বলেন, ‘নোবেলের সঙ্গে সংসার করা সম্ভব না। তাই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছি। এখন যদি সে সিগনেচার করে দেয় তাহলে ডিভোর্স হয়ে যাবে। আর সিগনেচার না করলে তিনমাস পর অটোমেটিক ডিভোর্স কার্যকর হবে।’
কী কারণে তালাক চাইছেন? উত্তরে সালসাবিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নোবেল মানসিক অসুস্থ। সে মাদক এবং নারীতে আসক্ত। বিভিন্ন সময় আমাকে নির্যাতন করেছে। এসব কারণে ওর সাথে সংসার করা সম্ভব না। তাই ডিভোর্স লেটার (তালাক নোটিশ) পাঠিয়েছি।’
এদিকে তালাকনামা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নোবেলও। তিনি বলেন, ‘আমি তালাকনামা পেয়েছি কিন্তু আমি স্বাক্ষর করিনি, করব না। এটা তিন মাস পর নিজ থেকেই কার্যকর হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই।’ তবে তালাকনামা পেয়ে খুশিই হয়েছেন বলে মন্তব্য আলোচিত-সমালোচিত এ গায়কের। পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন সালসাবিল তাকে ‘বিষ খাইয়ে’ মারার চেষ্টা করেছিলেন।
বিষ খাওয়ানো হয়েছে এটা কীভাবে বুঝলেন- জানতে চাওয়া হলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘“তামাশা” গান যখন রিলিজ হয় তখনই ঘটনাটি ঘটেছিল। সে আমাকে অতিরিক্ত মাদক খাওয়াতো। এটা মাদক বলেন আর মদ-ই বলেন অতিরিক্ত খেলে কিন্তু মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। সে সেটাই করেছে।’
বিচ্ছেদপত্র হাতে পাওয়ার বিষয়ে এ গায়ক বলেন, ‘এক/দেড় মাস আগে ডিভোর্স লেটার পাইছি। আমার ঢাকার বাসাতেও পাঠানো হয়েছে। লেটার পাওয়ার পর সিটি করোপরেশেন থেকে ডাকে। আমে এখনও ডাকেনি। সম্ভবত আমার ডিভোর্স হয়ে গেছে।’
বিচ্ছেদের কারণ কী উল্লেখ করা হয়েছে- জানতে চাইলে নোবেল বলেন, ‘দুজনের সঙ্গে সঙ্গে বনিবনা হয় না। সে আমার অনেক বড় ক্ষতি করেছে। আমার কাছে তথ্য আছে বাংলাদেশের সেলিব্রেটি তাকে হায়ার করেছে। আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য। বড় এক সেলিব্রেটি তার সঙ্গে আছে।’
নোবেল অভিযোগ করেন তার পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র গায়েব করে দিয়েছেন সালসাবিল। ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের টাকা সরিয়েছেন তিনি।
‘সে আমার পাসপোর্ট, এনআইডি গায়েব করে দিয়েছে। আমার ব্যাংকে ৩০ লক্ষ টাকা সরিয়ে ফেলেছে। এই আরকি। তবে আমি মাইন্ড করিনি। আমার বউ ৩০ লক্ষ কেন কলিজা কেটে নিয়ে গেলেও আমি মাইন্ড করি না। কিন্তু বলব, বড় বাঁচা বেচে গেছি। শুধুই তাই নয়, সে আমাকে মারধর করেছে। আমাকে বিষ পর্যন্ত খাওয়ানো হয়েছিল। আমি তো ধনুষ্টংকার রোগে মারাই যেতাম’, যোগ করেন এ গায়ক।
তিনি জানান, ছয় মাস আগে এ ঘটনা ঘটেছিল। আক্ষেপ করে নোবেল আরও বলেন, ‘বউটা যদি জেনুইন না হয়, যদি হায়ার করা হয় তাহলে তো সমস্যা। বেঁচে গেছি এটাই বড় কথা।’
