নজর২৪, ঢাকা- পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে গেল কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিসও। মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন দলটি শুক্রবার দলের সর্বোচ্চ পর্ষদ মজলিসে শুরার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়।
এতে ২০ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচি না থাকার পাশাপাশি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানায় দলটি।
শুরার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যানের লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, খেলাফত মজলিস একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতির প্রয়োজনে সদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে খেলাফত মজলিস বিশ্বাসী। একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকেরও অধিক সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশ, জাতি, ইসলাম ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। খেলাফত মজলিস মনে করে, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন-পালন করার অধিকার আছে, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত।
মজলিসের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর। আর এই জোটে থাকায় রাজনৈতিক মূল্যায়নও পায়নি মজলিস। সর্বশেষ হেফাজতের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের ঘটনায় দলটির মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাই খেলাফত মজলিসের জোট ত্যাগ করার পেছনে রাজনৈতিক কারণই প্রধান।
নেতারা জানান, রাষ্ট্রীয় চাপ ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে নতুন আঙ্গিকে চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা চলছে মজলিসে।
এর আগে যেসব দল জোট ছেড়েছে
এর আগে বিএনপির জোট ছেড়ে দেয় চারটি দল।
২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট।
২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টি।
২০১৯ সালের ৬ মে ২০ দল ছাড়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।
সবশেষ গত ১৪ জুলাই জোট ছেড়ে যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
জোটের আরেক শরিক কল্যাণ পার্টিও ২০ দল ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপিকে।
