সংকট কাটেনি, এখনও অবরুদ্ধ রবি’র রেজিস্ট্রার ও শিক্ষকরা

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিস্কারের দাবিতে গত ৩দিন যাবৎ আন্দোলনে রয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে শিক্ষক কর্মচারিদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

 

জানা গেছে, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব উদ্দিনসহ শিক্ষক কর্মচারীরা বিস্কুট, কলা ও চা খেয়ে অতিবাহিত করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহজাদপুর পৌর শহরের বিসিকের ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কান্দাপাড়ায় অবস্থিত প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ৫ তলা ভবনের ২টি গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব উদ্দিনসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষক কর্মচারি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিংয়ে যাওয়া সাংবাদিকরা কথা বলেন শিক্ষক কর্মচারিদের সাথে। তারা জানান, শিক্ষার্থীরা কাউকে বাইরে যেতে বা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, ফলে সারাদিন তারা খাবার হিসেবে অফিসে রাখা বিস্কুট, কলা ও চা খেয়ে রয়েছেন।

 

এদিকে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে সব পরীক্ষাও। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্জের দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

বৈঠক শেষে রাত ১০টার পর প্রধান ফটকের বাইরে অপেক্ষমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও রেজিষ্ট্রার দুজনেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিস্কার না হওয়া পর্যন্ত অনড় আন্দোলনকারীরা।

 

শেষ পর্যন্ত অনশন, বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন বলেও তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীদের নেতারা। বৈঠক চলাকালে ফারহানা ইয়াসমিনের বহিস্কারের দাবিতে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষুব্ধরা।

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার ও শিক্ষকরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *