নজর২৪, রাজবাড়ী- অবশেষে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভেঙেই গেল রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৪টার দিকে স্কুল সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক ভেঙে বিদ্যালয়টি নদীতে ধসে পড়ে। এ সময় এলাকার শতশত মানুষ তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি নিজের চোখে নদীগর্ভে চলে যেতে দেখেন।
বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের মানুষের শতাধিক সন্তানদের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে গেল। তবে প্রশাসন বলছে- এই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে কোন ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিন গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে চর সিলিমপুর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টিসহ ওই এলাকার স্থাপনা ও ঘরবাড়ি রক্ষা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে হঠাৎ করে বিদ্যালয় সংলগ্ন পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন শুরু হয়। এতে সিসি ব্লকের প্রায় ৪০ -৫০ মিটার ব্লক নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
আর হঠাৎ করে সিসি ব্লক ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চরম হুমকিতে পড়েছিল বিদ্যালয়টিসহ মসজিদ ও প্রায় অর্ধশত বসত ভিটা। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপদ একটি টিনশিডে পাঠদান সম্পন্ন করছিল।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী তখন গণমাধ্যমকে বলেছিল, পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে স্কুলের কাছে চলে এসেছে। স্কুলটি রক্ষার জন্য যে সিসি ব্লক ফেলা হয়েছে সেই ব্লকের একটু দূরেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহূর্তে স্কুলের পাশটিও ভেঙে যেতে পারে। তাই আমরা ভয়ে কেউ ক্লাসে ঢুকি না।
আজ (শুক্রবার) বিকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সেদিনের সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিল। হঠাৎ করেই চোখের সামনে ধসে যেতে দেখলো তাদের সেই প্রিয় বিদ্যালয়টি।
চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রনি জানায়, তার বাড়ি এই স্কুলের পাশেই। সে এই স্কুলে পড়ত। এখন সে কোথায় পড়বে। তার বাড়িটাও আছে ভাঙন ঝুঁকিতে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, ‘স্কুল নদীতে চলে গেছে। আমি এখন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এই স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে।’
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, ‘চর সিলিমপুরে হঠাৎ ভাঙনে স্কুলসহ সিসি ব্লকের ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
