নজর২৪ ডেস্ক- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে সমাবেশস্থল থেকে হটে যেতে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
যেখানে এই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল, তার অদূরে সমাবেশ করেছে মেয়র অনুসারীরা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন করায় এই আনন্দ সমাবেশ ডাকেন মেয়র অনুসারীরা। খবর- নিউজ বাংলার
চার দিন আগে মেয়র ভারত সফরে যাওয়ার পর একটি ঘরোয়া আয়োজনে তার কথা বলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর বুধবার থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ গাজীপুরে বিক্ষোভ শুরু করে।
টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে।
পাশেই বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ডবাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন মেয়র অনুসারীরা। এ সমাবেশে মেয়র জাহাঙ্গীর যে যোগ দেবেন, তা জানানো হয় আগেই।
দুই পক্ষের এই বিক্ষোভে উত্তেজনার মধ্যে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর থেকেই চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে মোতায়েন করা হয় জলকামানও। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের। তবে বিকেল ৪টার দিকে ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন।
জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকরা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীর অনুসারীরা।
এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আবু সাঈদ নামে মেয়রের এক সমর্থক আহত হন। আবু সাঈদ জানান, হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও একে একে চলে যান। এরপর জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেন। সেখানে যোগ দেন মেয়র নিজেও।
নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিকেল ৪টার কিছু সময় পর বের হন মেয়র জাহাঙ্গীর। হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে ওঠার পরপর নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে বেলা পৌনে ৪টার দিকে মেয়রের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার সময় দুই পক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় মেয়রের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধরা সমাবেশ ছেড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। সে সময় বোর্ডবাজার এলাকার সকল দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়।
