নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) গ্রেফতার করায় সব শেষ হয়েছে এমনটি মনে করছে না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। ইভ্যালির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গ্রাহকদের ধৈর্য ধরতে হবে। আইনি মাধ্যমে অবশ্যই ভালো কোনো সংবাদ পাওয়া যাবে। এখনো ইভ্যালির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়তো রয়েছে। ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে ইভ্যালিকে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।’
ই-ক্যাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আটক হয়েছে বলেই মনে করা যাবে না যে, সব শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসা তো বন্ধ হয়ে যায়নি, চলমান রয়েছে। এছাড়া আইনিভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে আসার সুযোগও থাকে। যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে তখন বলা যাবে যে, সব শেষ হয়ে গেছে।’
মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মনে করেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত যে করোর ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করলে একটা সুফল পাবেন। তিনি বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে ভোক্তা অধিকার সব সময়ই উন্মুক্ত। এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ ভাগ জরিমানাসহ রিটার্ন দেওয়ার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
ইভ্যালির গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক, একটা কঠিন সময় পার করছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। বিশেষ করে গত কয়েকদিনের ঘটনায় অনেকেই হতাশ হয়ে যেতে পারেন। তবে হতাশ না হয়ে সামনের দিনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। সুসময় হয়তো আসতেই পারে। তবে ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।’
‘ইভ্যালির বিষয়ে ই-ক্যাব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে’- জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে ইভ্যালি তিন মাস সময় চেয়েছে। এ সময় আগামী মাসের (অক্টোবর) ২৬ তারিখে শেষ হবে। এরপরে আমরা ইভ্যালি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
ইভ্যালিকে সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কিন্তু ওভারকাম করার জন্যে সময় চেয়েছে। নিঃসন্দেহে তাদের হয়তো সে ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। তারপরও যেহেতু বিষয়টা আইন আদালত পর্যন্ত গেছে, সুতরাং এ বিষয়ে কী হবে তা বলা মুশকিল।’
ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের সব সময় সতর্ক হয়ে লেনদেনের পরামর্শ দেই। জেনে-শুনে দেখে-বুঝে তারপর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করা উচিত। এতে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকাংশই কম থাকে।’
ইভ্যালির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইভ্যালির সব শেষ হয়ে গেছে এটা বলার সময় আসেনি। গ্রাহকরা যেন আরও সতর্ক থেকে লেনদেন করেন এ পরামর্শ-ই দেব। ইভ্যালি আমাদের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যেও বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’
উল্লেখ্য, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের মামলার কয়েক ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।
ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”
র্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।
