ইভ্যালির ৩১১ কোটি টাকার দেনাকে ‘প্রতারণা’ বলছেন গ্রাহকরা

নজর২৪ ডেস্ক- প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ জন গ্রাহকের কাছে ৩১১ কোটি টাকার দেনা আছে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইভ্যালির। আর এই দেনাকে একরকম ‘প্রতারণা’ বলছেন গ্রাহকেরা। তবে ছয় মাসে এই দেনা শোধ করা হবে জানায় ইভ্যালি।

 

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গ্রাহকদের কাছে দেনার এক হিসেব জমা দেয় ইভ্যালি। নিজেদের হিসেবেই ইভ্যালি জানায়, ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ জন গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য তাদের এখনও ডেলিভারি করা হয়নি। গ্রাহকদের পরিশোধিত মূল্য প্রায় ৩১০ কোটি টাকা।

 

তবে অর্ডার করা পণ্য ব্যবসা দিয়ে মুনাফা অর্জন করে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা সম্ভব বলে দাবি করেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।

 

জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই দেনা হয় প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়াও বিভিন্ন সেলার ও মার্চেন্টদের হিসেব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা ৫৪৪ কোটি টাকা। নিজেদের পেইড আপ ক্যাপিটাল ১ কোটি টাকা বাদ দিলে সর্বশেষ দেনা প্রায় ৫৪৩ কোটি টাকা।

 

গ্রাহকদের কাছে থাকা দেনার বিষয়টিকে নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক। নূরে সিদ্দিকী নামে একজন গ্রাহক বলেন, আমার একটা বাইক অর্ডার করা আছে। সেই বাইক ৬ মাসের ওপরে পাই নাই। তাহলে এটা তো আমার সঙ্গে প্রতারণা। আমার মতো গ্রাহকদের টাকা দিয়েই তো তারা বিজনেস করেছে। কিন্তু আমাদেরকে পণ্য দেয়নি। তাহলে এটা প্রতারণা না?

 

এদিকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে প্রায় ৭ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে বলে সেখানকার একটি সূত্র নিশ্চিত করেন। তবে এর মধ্যে ৫ হাজারের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয় এবং বাকি অভিযোগ নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা যায়।

 

অন্যদিকে, গ্রাহকদের কাছে হওয়া এই দেনা ব্যবসা করে ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নিজেদের চিঠিতে জানিয়েছে ইভ্যালি। ৭০ লাখ অর্ডার ইতোমধ্যে সফলভাবে গ্রাহকদের কাছে ডেলিভারি হয়েছে বলেও দাবি প্রতিষ্ঠানটির। সেই চিঠিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সফলতার সঙ্গে সরবরাহ হয়েছে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় আছে। কিছু সংখ্যক গ্রাহক পণ্য পাননি, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ৬ মাসের মধ্যে ওই সব ক্রয়াদেশসহ সব ক্রয়াদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হব। এ পরিবেশ তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রণী ভূমিকার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

 

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি এক লাইভে মোহাম্মদ রাসেল ৬ মাসের মধ্যে সব গ্রাহকদের অর্ডার ডেলিভারি করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, একজন গ্রাহকের একটি অর্ডার বা রিফান্ড বাকি থাকবে না। সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে এগুলো ডেলিভারি করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি। শুরুর পর থেকেই গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে দেওয়া হয় একের পর এক আকর্ষণীয় অফার। ইভ্যালির এমন অবিশ্বাস্য অফার নিয়ে শুরুতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচনা থাকলেও গ্রাহকরা সেই অবিশ্বাস্য অফারে ঝুঁকে পড়ে। তড়িৎ গতিতে বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়ীক কার্যক্রম।

 

বাইক, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ যাবতীয় সব পণ্যে মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি চলে ইভ্যালিতে। গ্রাহকরাও এমন মূল্য ছাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। শুরুতে রমরমা ব্যবসা করে ইভ্যালি।

 

আগে টাকা পরে পণ্য ডেলিভারি দিলেও শুরুতে গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে যখন পণ্য ডেলিভারির সময় দীর্ঘ হতে থাকে এরপরই গ্রাহকদের কাছ থেকে আসতে থাকে একের পর এক অভিযোগ। অভিযোগের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে।

 

গ্রাহকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক মাস আগে ইভ্যালির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিলে কোম্পানির গোজামিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *