‘জিয়ার মরদেহ’ নিয়ে অবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী!

নজর২৪, ঢাকা- চন্দ্রিমা উদ্যানের সমাধিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের দেহাবশেষ আছে কি নেই, সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে ডিএনএ পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় যদি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার দেহাবশেষ পাওয়ার প্রমাণ মেলে, তাহলে তিনি নাকে খত দেবেন।

 

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় এ কথা বলেন মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদ নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে এই আলোচনার বিষয় ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হ-ত্যা রোধে করণীয়’।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, পরশু বিএনপি মহাসচিব চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, জিয়াউর রহমানের লাশ মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে এবং তারা খুঁজে পেয়েছেন। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই, জাতির কাছে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এখন তাকে জবাব দিতে হবে, সেই লাশের ছবি কোথায়, সাধারণ একটা মানুষেরও তো ছবি থাকে। তিনি তো রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার অনুযায়ী তাদের সবকিছুর ছবি ধারণ করা থাকে। জিয়াউর রহমানে লাশ পেলেন, ছবিটা দয়া করে দেখান।

 

তিনি বলেন, এই (চন্দ্রিমা উদ্যানে) কবর কার, আমার মতে এটা কোনো মতেই জিয়াউর রহমানের নয়। যদি হয় তবে প্রমাণ করুন।

 

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তা (লাশের ছবি) যদি নাও থাকে বিজ্ঞানকে আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারি না। ডিএনএ টেস্ট করলে পাওয়া যাবে যদি ওখানে (কবরে) কিছু থেকে থাকে। ডিএনএ টেস্ট করে প্রমাণ করুন। যদি প্রমাণ হয়, জাতির কাছে নাকে খত দিয়ে ক্ষমা চাইব। যদি মিথ্যা কথা বলে থাকি, অন্য কোনো দণ্ড দিলে সেটাও মাথা পেতে মেনে নেবো। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, সেখানে তার (জিয়াউর রহমান) মরদেহ নেই।

 

মন্ত্রী এ সময় বলেন, আমি আরও একটি কথা বলতে চাই। সেটি হলো মহাসচিব বলেছেন, আমি জিয়াউর রহমানের কবর অপসারণের কথা বলেছি। তবে আমি বলতে চাই যে, কথাটি আসলে আংশিক সত্য, পুরোপুরি সত্য নয়। বিষয়টি হচ্ছে আমি জাতীয় সংসদে একাধিকবার বলেছি সংসদের নকশার বাইরে যা কিছু আছে, তার সবকিছুই আমাদের অপসারণ করা উচিত। কেননা এটি বিশ্বের মধ্যে একটি অনন্য নিদর্শন। আমি নকশার বাইরে সবকিছুই অপসারণ করতে বলেছি। সেখানে অন্যান্যদের কবরও আছে। শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানের কবরকে নির্দেশ করে বলা নয়।

 

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *