নজর২৪ ডেস্ক- ধর্মভিক্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খবর- নিউজবাংলার
গত সেপ্টেম্বরে শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর তার অনুরাসীরা হত্যার যে অভিযোগ এনেছিলেন, তখন কারও স্বাভাবিক মৃত্যুর পর এ ধরনের অভিযোগ আনা ‘শিরক’ তথা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার অকস্মাৎ বাবুনগরীর মৃত্যুর খবর আসে। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর দেয়া বক্তব্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নূর এবার অভিযোগ করলেন, বাবুনগরীর মৃত্যুর জন্য দায়ী সরকার।
আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর মৃত্যুর পর পরস্পরবিরোধী স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নূরের অবস্থান বদল, তার নিজের মতো করে ধর্মকে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা বলে সমালোচনা করছেন তার বিরোধীরা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর নূর তার ফেসবুক পেজে লেখেন, “যেখানে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’ -সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮৫।
সেখানে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হজুরের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা কি শিরক নয়? অথচ সরকারের একদল দালাল তাই করে যাচ্ছে। মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরকে বেহেশত নসিব করুন।’
শফীর মৃত্যুতে হত্যার অভিযোগ আনাকে ‘শিরক’ আখ্যা দেয়া নূর এবার নিজেই আনলেন একই ধরনের অভিযোগ। এবার তিনি লেখলেন, ‘বাবুনগরী হুজুরের মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না।
‘মোদিবিরোধী আন্দোলনে গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের তাণ্ডবের দায় চাপিয়ে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, সরকার কর্তৃক অব্যাহত অমানবিক চাপ ও গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি-ধমকিতে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন।
‘শেষ পর্যন্ত দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’
আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর মৃত্যুতে দুই ধরণের বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে জানতে নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার নামে অনেকগুলো ফেসবুক পেজ আছে। বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে আমার নামে চালিয়ে দেয়া হয়। শফী হুজুরের স্ট্যাটাসটি এক বছর আগের কথা তো, ওইটা আমি বলতে পারছি না। ওগুলো এডিট হতে পারে। আমার নামে অনেকগুলো ফেসবুক পেইজ আছে। এ জন্য আমি শাহবাগ থানায় জিডিও করছি।
‘সেই নামে অনেক ভুয়া পেজ থাকতে পারে। এগুলো এডিট করা হতে পারে বলেই আমার ধারণা। এক বছর আগের ঘটনা, এগুলো নিয়ে এখন আমাদের সমালোচনা করা ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শফী হুজুরকে নিয়ে ওইটা আমার বক্তব্য না। তবে বাবুনগরীকে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি এটা আপনাকে আমি শিওর করলাম। আপনি সেই ফেসবুক পেজের লিংকটা পাঠান।‘
পরে নিজের সেই পেজের লিংকটি পাঠালে পাল্টে যায় নূরের বক্তব্য। বলেন, ‘এই ফেসবুক পেজটা আমি ওইভাবে চালাই না।’ ওইভাবে বলতে কোনভাবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার আরেকটা পেজ আছে।’
ওইভাবে না চালালেও এই পেজে গত ২৪ ঘণ্টায় পোস্ট দেখা গেছে পাঁচটি। এর মধ্যে একটি পোস্ট দেয়া হয় গত রাতে ১০টার দিকে। দ্বিতীয় পোস্টটি দেয়া হয় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে। তৃতীয় ও চতুর্থ পোস্টটি দেয়া হয় বেলা সাড়ে চারটার দিকে আর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দেয়া হয় আরও একটি পোস্ট।
এই পর্যায়ে এসে নূর দোষ চাপান তার পেজের মডারেটর ও এডিটরদের ওপর। বলেন, ‘ওইটা বোধহয় (আল্লামা শফীকে নিয়ে) আমার স্ট্যাটাস না। আর আমার পেজে অনেক এডিটর থাকে। কেউ কখনও দিয়েছে কি না, এটাও আমি শিওর না। এমন স্ট্যাটাস দেয়ার কথা না।’
