বিনোদন ডেস্ক- গত ৪ আগস্ট ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে বনানীর বাসা থেকে মাদকসহ গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর দুই ধাপে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।
এই ঘটনায় গত কয়েক দিনে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই পরীমণির পক্ষে এগিয়ে এসেছেন। যার যার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলছেন নায়িকার মুক্তির জন্য। সম্প্রতি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন কথা বলেছেন পরীমনিকে নিয়ে।
পরীমনিকে নিজের সহকর্মী দাবি করে বাঁধন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অবশ্যই সে (পরীমনি) আমার সহকর্মী। আমি তার সেফটি-সিকিউরিটি, তার শারীরিক, মানসিক এবং ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত।’
পরীমনির সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশে নারীর অবস্থান এখনও এই জায়গায় আছে জন্য আমি ভীষণ লজ্জিত। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আতঙ্কিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কোনো অপরাধ করলে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সুষ্ঠু বিচার হবে।’ একজন প্রতিষ্ঠিত এবং নামকরা অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা হওয়াটাকে নিন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন বাঁধন।
তিনি বলেন, ‘পরীমনি একজন প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তার একটা সম্মান ও অবস্থান আছে সমাজে। তার ব্যক্তিগত জীবন ও অতীত নিয়ে যেভাবে মিডিয়া এবং সেশ্যাল মিডিয়া মানে সাধারণ মানুষ চর্চা করছে এটা খুবই লজ্জার। একই সঙ্গে এটা তো খুব আতঙ্কেরও বিষয়।’
মাদক মামলায় পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো আরও দুঃখজনক বলে মনে করেন বাঁধন।
তিনি বলেন, ‘মামলার যে কারণ দেখানো হচ্ছে সেটাই যদি কারণ হয়ে থাকে সেটা তো খুবই দুঃখজনক। তাহলে এই প্রোডাক্টগুলো তার বাসা পর্যন্ত কীভাবে এলো? কারা সাপ্লাই দিল এটা তো আগে জিজ্ঞেস করা দরকার ছিল। এভাবে যদি ধরতে হয় তাহলে তো দেশের কত মানুষকে ধরতে হবে। ওই জায়গাটা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।’
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাব সদরদপ্তরে। ওইদিন রাতভর সেখানেই থাকতে হয় পরীমণিকে।
পরদিন বৃহস্পতিবার র্যাব-১ বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এরপর সেদিনই তাকে আদালতে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বনানী থানা পুলিশ। এরপর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
এই রিমান্ড শেষে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে বন্দি রাখার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করে। এমন পরিস্থিতিতে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে গত শুক্রবার (১৩ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডলের আদালতে এই জামিনের আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।





