বিনোদন ডেস্ক- পরীমণিকে বলা হয় এই সময়ের ঢাকাই সিনেমার ‘গ্ল্যামার গার্ল’। সম্প্রতি মাদক মামলায় জড়িয়ে টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হন এই চিত্রনায়িকা। নন্দিত-নিন্দিত দু’ভাবেই তিনি পরিচিত।
তাকে নিয়ে মুখরোচক অনেক কিছুই অন্তর্জালে ভেসে বেড়ায়। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- কর্মক্ষেত্রে কেমন ছিলেন এই নায়িকা? অর্থাৎ পরীমনির লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের যে জগৎ সেখানে নির্মাতাদের চোখে তিনি কেমন ছিলেন?
চলচ্চিত্রে পরীমনির ক্যারিয়ার শুরু হয় শাহ আলম মন্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে। পরীমনি প্রসঙ্গে এই নির্মাতা বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারেও প্রথম সিনেমা ছিল এটি। আমি যতদূর দেখেছি সে ভালোভাবেই কাজ করেছে। কখনও খারাপ কিছু দেখেনি। তার মধ্যে উগ্রতা চোখে পড়েনি।’
‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার শুটিং চলাকালেই ‘রানা প্লাজা’য় যুক্ত হন পরীমনি। এই সিনেমার নির্মাতা নজরুল ইসলাম খান। পরী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রানা প্লাজা’ সিনেমার জন্য নতুন মেয়ে চাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই পরীমনির সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে ভেবেছিলাম সে হয়তো পারবে না। এ জন্য আরেকজন নায়িকা রেডিও করে রেখেছিলাম। কিন্তু প্রথম শটই ওকে হয়। অনেক পরিশ্রমি ও মেধাবী একজন শিল্পী পরীমনি। আমি কখনও ওর মধ্যে খারাপ কিছু পাইনি। ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও সে শুটিং করেছে। কখনও না বলেনি। কাজের প্রতি সিরিয়াস ছিল। আমাকে দেখলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতো। সত্যি বলতে ওর মতো ভদ্র, মার্জিত শিল্পী আমি কমই দেখেছি।’
পরীমনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার বিচার কাজ চলছে। কেন এমন হলো বুঝে উঠতে পারছেন না নজরুল ইসলাম খান। তবে তার ভাষ্য হলো ‘পরীমনি ক্ষতি করে থাকলে সেটা রাষ্ট্র দেখবে। প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। তবে আমি চাই পরী ফিরে এসে কাজ শুরু করুক। ওর মতো শিল্পী সিনেমায় দরকার।’
পরীমনির ক্যারিয়ারে আলোচিত সিনেমা ‘অন্তরজ্বালা’। এই সিনেমার নির্মাতা মালেক আফসারি বলেন, ‘আমার সঙ্গে শুধু পরী না সব শিল্পীরাই সিনসিয়ার থাকে। ব্যাসিকেলি শিল্পীরা যখন কাজ করতে আসে তখনই বুঝে যায় ইউনিট কেমন। তারা যদি দেখে টোটাল ইউনিট খুব সিরিয়াস তখন তারাও সিরিয়াস হয়ে যায়। পরী কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।’
‘ফেইসবুকে পরীমনির বিকিনি পরা ছবি দেখে আমি আমার নাম উল্লেখ না করে একটি পোষ্ট দেই। সেখানে লিখেছিলাম, আমাদের এটা ইসলাম কান্ট্রি। তাই নায়িকাদের আরো হুঁশিয়ার হয়ে চলা উচিত। বিষয়টা পরী বুঝতে পেরে সেও নাম উল্লেখ না করে ফেইসবুকে পোষ্ট দেয়- আপনি সিনেমার পরিচালক আছেন সিনেমা পরিচালনা করেন। আমাকে ডারেকশন দিতে আসিয়েন না। এরপর আমি পোস্টটা ডিলিট করে দেই।’ বলেন আফসারি।
এ ঘটনার পরও দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় ছিল উল্লেখ করে জনপ্রিয় এই নির্মাতা বলেন, ‘বোট ক্লাবে এত রাতে যাওয়ার পরেও তার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছি। কারণ তার কান্নাকাটি দেখে খারাপ লেগেছে। মনে হয়েছে যে ওর উপর অন্যায় হয়েছে। সে এমন একজন সেলিব্রেটি দেখেন কোর্টে তার পক্ষে কে লড়বে এটা নিয়ে ঝগড়া। আদালত লোকে লোকারণ্য। সিনেমায় করোনায় যে প্রভাব, তার কাছে এই প্রভাব তুচ্ছ।’
পরীমনির আরেকটি আলোচিত সিনেমা ‘স্বপ্নজাল’। এই সিনেমায় তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমার নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমরা প্রফেশনালি কাজ করেছি। আমি তাকে নিয়ে ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পেরেছি। টাইমলি সেটে আসা নিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে জটিলতা হয়। পরীর ক্ষেত্রে তা পাইনি। সে টাইমলি সেটে আসতো। তাকে নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে এট লিস্ট কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।’
উল্লেখ্য, মাদক মামলায় ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন প্রিজনভ্যানে করে পরীমণিকে সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এখন তিনি সেখানে আছেন।
কারাসূত্র জানায়, নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত হননি তাই কোয়ারেন্টাইন সময় পার হওয়ার পর তাকে অন্য বিচারাধীন সাধারণ বন্দির সঙ্গেই রাখা হবে।
১০ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। এর আগে ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।
তার আগে গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র্যাব। পরীমণির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাবের সদরদফতরে। সেখানেই রাত কাটাতে হয়। ৫ আগস্ট র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। সেদিনই তাদের আদালতে নেওয়া হয়।
