পরীমণি ইস্যু : শাকিব খানের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন জায়েদ খান

নজর২৪ ডেস্ক- চিত্রনায়িকা পরীমণি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। গত ৪ আগস্ট তাকে বনানীর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুই ধাপে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল পরীকে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তাকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কারাগারে।

 

গ্রেফতারের পর প্রথম দিকে প্রায় সকলেই পরীমণির বিপক্ষে কথা বলেছেন। আর সিনেমা অঙ্গনের মানুষেরা ছিলেন চুপ। কয়েক দিন পর নীরবতা ভেঙে সরব হয় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। তারা পরীমণির পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো তার সদস্যপদ স্থগিত করে।

 

এদিকে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিতসহ তাকে নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান। তবে এ নিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলছেন, বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমিতির আপাতত কোনো বক্তব্য নেই।

 

ঢাকার বনানীর বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৪ অগাস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর ৭ অগাস্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) সংবাদ সম্মেলন করে তার সদস্যপদ স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিল্পী সমিতি।

 

তার এক সপ্তাহ পর চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গঠিত শিল্পী সমিতির এই ভূমিকাকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যায়িত করে শনিবার সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনায় শামিল হন সাবেক সভাপতি শাকিব খান।

 

শাকিব খানের অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ওটা তিনি দিতেই পারেন। সে একজন পার্শ্ব শিল্পী। তার অভিমত সে ব্যক্ত করেছে, করুক। একটা নিয়ে কিছু বলার নেই।”

 

এক প্রশ্নের জবাবে জায়েদ খান বলেন, “আমি আসলে পোস্টটি দেখিইনি। এখন কোনো বক্তব্য আমরা দেব না। ১৫ অগাস্টে আমাদের কার্যক্রম আছে। সেটা শেষ হলে দেখব, কী করা যায় ।”

 

“বিষয়টি নিয়ে তার (শাকিব খান) আরও আগেই বলা উচিত ছিল। ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেলে লাভটা কী,” মন্তব্য করেন জায়েদ।

 

এর আগে শনিবার দুপুরে শাকিব খান ফেসবুক পেজে পরীকে নিয়ে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে শাকিব লেখেন, ‘পরীমণির মামলা এখন বিচারাধীন। ওই বিষয়ে কিছু বলছি না। সে যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে, তার কী অপরাধ সেটা বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। দেশের প্রচলিত আইন আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। নিশ্চয়ই নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সঠিক বিচার হবে। কিন্তু তার আগে পরীমণির জীবন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যেভাবে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে, এটা সত্যি দুঃখজনক।

 

আরও দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরণের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিঁটে!’

 

শিল্পী সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাকিব লিখেছেন, ‘সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?

 

বিগত দিনে একাধিক সিনিয়র শিল্পী এর চেয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার শিল্পী সমিতি অভিযুক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করেনি। বরং পাশে ছিল, রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু এখনকার শিল্পী সমিতির এসব আচরণ বিতর্কিত। আবারও বোঝা গেল, এই শিল্পী সমিতি সবাইকে এক করতে পারেনি, বরং বিচ্ছিন্ন করেছে। বিভেদ তৈরি করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে।

 

হয়তো এজন্য চলচ্চিত্রের আজ এই দুর্দশা। এমনিতেই নানা কারণে সিনেমা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সামনে আরও ঘোর বিপদ।’

 

আড়ালে থাকা প্রভাবশালীদের খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান শাকিব খান, ‘যারা পরীমণিকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরকেও খুঁজে বের করা উচিত। পরীমণি ত্রিশটির বেশি সিনেমার সাথে জড়িত বলে জানতে পেরেছি। তার হাতে আছে আরও বেশ কিছু সিনেমা। কিন্তু যারা বছরের পর বছর একটি সিনেমাতেও কাজ না করে দিনের পর দিন শিল্পী সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদেরও আয়ের উৎসও খুঁজে বের করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *