নজর২৪ ডেস্ক- দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকে করোনা নিয়ে একের পর এক উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে জনগণকে টিকা নিতে নিরুৎসাহিত করা, মাস্ক পরতে নিষেধ করা ধর্মীয় বক্তারাও এখন টিকা নিতে শুরু করেছেন।
এবার টিকা নিলেন কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী, যিনি এর আগে একাধিকবার বলেছেন, মাদ্রাসায় করোনা আসবে না।
রোববার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার ভ্যাকসিন নেন তিনি। গাড়িতে করে টিকাকেন্দ্রে যাওয়া সত্তোর্ধ্ব বাবুনগরী টিকা নেন গাড়িতে বসেই।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন, বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা শফি।
টিকা নেয়ার পর হেফাজত নেতা বলেন, ‘টিকাকে হারাম বা নাজায়েজ বলা যাবে না… শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়েজ বলা যাবে না। চিকিৎসা জায়েজ। চিকিৎসাবিধি মেনে চলতে হবে। করোনার টিকা নিয়েছি। কোনো সমস্যা হয়নি।’
তিনি বলেন, মহামারির এই কঠিন সংকটময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে যার যার অবস্থান থেকে সকল প্রকার গুনাহ ও অন্যায় কর্মকাণ্ড পরিহারপূর্বক তাওবা করে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। আল্লাহ তাআলার কাছে বিপদের এই সময় দোয়া করি, যেন এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।
পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলেম সমাজের মাঝে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে অমূলক ভীতি ও দ্বিধা বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এটি একটি সংক্রামক ভাইরাস। বিষয়টি নিয়ে ভীত হওয়া যাবে না। এই মহামারি থেকে রক্ষায় এবং সবার ভীতি দূর করতেই হেফাজতের আমির ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।
এমতাবস্থায়, জুনায়েদ বাবুনগরীর ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে প্রচার করা হলে আলেম সমাজ টিকা গ্রহণে উৎসাহ পাবে বলেও মনে করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আগে যা বলেছেন
গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক ব্রিফিংয়ে বাবুনগরী বলেন, যেখানে কোরআন, হাদিস পাঠ করা হয়, যেখানে হেফজখানায় ছাত্ররা কোরআন পাঠ করে সেখানে করোনা আসবে না। তার কারণ হলো আল্লাহর রহমত।
গত ৩০ জুলাই এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে সকলের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, সকল প্রকার অন্যায়, জুলুম ও পাপাচার থেকে বিরত হয়ে ভবিষ্যতে আর কখনো এসব না করার সংকল্প নিয়ে তাওবা করে আল্লাহমুখী হয়ে যাওয়া।
‘ভবিষ্যত জীবনে আল্লাহ ও রাসূলের পরিপূর্ণ আনুগত্য, ইবাদত-বন্দেগী, বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথা সময়ে আদায়, রাসূল (সা.) এর সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ, সৎকর্ম ও সাধ্যমতো মাখলুকের সেবা করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দৃঢ় সংকল্প করা।’
করোনা থেকে দূরে থাকতে হলে কী করতে হবে, তার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশি বেশি তাওবা, ইসতিগফার, নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরে থাকতে হবে। একমাত্র আল্লাহর দয়া, রহমত ও ইচ্ছা ছাড়া মহামারির এই দুর্যোগ কেউ রোধ করতে পারবে না।’
আগের সংবাদ পড়ুন-
