নজর২৪ ডেস্ক- দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ফেসবুকের বিকল্প নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘যোগাযোগ’ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তারা তথ্য, উপাত্ত ও যোগাযোগের জন্য নিজেদের মধ্যে একটি নিজস্ব অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও গ্রুপ তৈরি করতে পারবে। উদ্যোক্তাদের বিদেশ নির্ভর হতে হবে না।
‘যোগাযোগ’ চালু এবং এমন উদ্যোগের সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এতে ‘বিকল্প ফেসবুকের’ পাশাপাশি ‘পিপীলিকা’র মতো দেশি সার্চ ইঞ্জিন কেন সফল হয়নি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী।
প্রশ্ন: হঠাৎ কেন নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘যোগাযোগ’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: অনলাইন জগতে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে ফেসবুক, ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিকল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আমাদের লক্ষ্য, নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরি করা। ফেসবুকের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে ‘যোগাযোগ’কে। তখন আমাদের বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না।
ফেসবুক আমাদের ৭২ হাজার ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তাদের ডেটাবেজে রেকর্ড করে রেখেছে। ফলে আমাদের নাগরিক, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। সে জন্য আমরা বলছি, আমাদের নিজস্ব সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থাকলে আমাদের তথ্যগুলো নিজ দেশে নিরাপদ থাকবে।
আর এমন উদ্যোগ নেয়ার বাণিজ্যিক কারণ হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন। আমাদের দেশের মধ্যেই ইউজারের কাছে পণ্য পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ফেসবুক। এতে বিদেশে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থাকলে সেখানে বিজ্ঞাপন দিলে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে, বিজ্ঞাপনের টাকা দেশের মধ্যেই রাখতে পারব। বিদেশে অর্থ চলে যাবে না।
প্রশ্ন: এর আগে ‘পিপীলিকা’ নামে একটি দেশি সার্চ ইঞ্জিন চালু হলেও সেটি হালে পানি পায়নি। তাহলে নতুন উদ্যোগ কি সফল হবে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: ‘পিপীলিকা’ ছিল একটা ইনোভেশন প্রোডাক্ট। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব ছিল। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের (এটুআই) মাধ্যমে ফান্ড দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তারা চেষ্টা করেছে, ডেভেলপ করেছে। ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এমন চেষ্টা করতে পারে।
একসময় পৃথিবীতে ‘ইয়াহু’, ‘বিং’ নামকরা ও জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ছিল। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের অনেকে এসবের নামই জানে না। প্রযুক্তির দুনিয়ায় এমন অসংখ্য ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট আসবে, হারিয়ে যাবে, নতুন আসবে। আমাদের কাজ হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা করা। কারণ সিলিকন ভ্যালির যে সংস্কৃতি, তাতে দেখা যায়, গত ৬০-৭০ বছরে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রোডাক্ট ফেইল করে, ১০ শতাংশ কেবল সাকসেস (সফল) হয়। কিন্তু ১০ শতাংশের যে সফলতা, তা ব্যর্থ হওয়া ৯০ শতাংশের ক্ষতির পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়।
আমাদের কেবল তো ১২ বছরের ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা। আমাদের যে ইনোভেশান কালচার বা স্টার্ট-আপ কালচার, তা তো মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের। আশা করছি, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে একটা ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে, কালচার গড়ে উঠবে। হাজারো ‘পিপীলিকা’ হয়তো আসবে, তার মধ্যে ১০টা বা ২০টা উদ্যোগ বাকিগুলোর ব্যর্থতার যে ক্ষতি তা অনেক গুণ পুষিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
