নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীতে ভাড়ার বাইক চালক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হয়ে আলোচনায় আসা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মাসুদ রানাকে ‘ভালো হয়ে যেতে’ পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছে উচ্চ আদালত।
একজন বিচারপতি তার উদ্দেশে বলেছেন, ‘ভালো হয়ে যান মিস্টার মাসুদ রানা।’
সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে মাসুদের বাইকে যাত্রী টানার বিষয়টি উঠে আসে অন্য একটি মামলার শুনানিতে।
আইনজীবী মাসুদ রানার দুটি মামলায় দুই আসামির জামিনের আবেদন ছিল এই বেঞ্চে। আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক তাকে দেখে বলেন, ‘মিস্টার মাসুদ আপনি বিখ্যাত হয়ে গেছেন উবার চালাইয়া। এগুলো করবেন না। আপনি ভালো হয়ে যান।’
আইজীবী মাসুদ রানা সম্প্রতি বাইকে ভাড়ায় যাত্রী বহন করার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। দাবি করেন, মহামারিতে আদালতের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় তার সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ আদালতে প্র্যাকটিস করেন। তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের জুনিয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। ছাত্র জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক, পরবর্তীকালে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন।
প্রায় এক দশক ধরে আদালতে প্র্যাকটিস করা তার মতো একজন আইনজীবীর লকডাউনের কয় দিনে এই পরিস্থিতিতে পড়াটা অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত আদালতে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজকে আইনজীবী মাসুদ রানার দুটি মামলা আমাদের কোর্টের তালিকায় ছিল। শুনানির সময় আমি বলেছি, ওনার (মাসুদ রানা) আর ওকালতির দরকার নাই। উবার চালালেই আপনার সংসার চলবে। দেখেন এইগুলি করবেন না। এইগুলি ভালো না। এটা আমাদের ডিগনিটির (মর্যাদা) সঙ্গে যায় না।
‘আদালতও বলেছেন, এগুলো আর কখনই করবেন না। এটা ঠিক না।’
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জুডিশিয়ারি, প্রধান বিচারপতিকে হিউমিলিয়েট (অপমান) করার জন্য তিনি এটা করেছেন। তিনি অভাবগ্রস্ত আইনজীবী না। তিনি সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের জুনিয়র। তার অনেক প্র্যাকটিস আছে কোর্টে। ভালো আয় আছে। এক বছরও যদি আয় না হয়, তাহলেও তার কিছু যাবে আসবে না। এটা তিনি সরকারকে হিউমিলিয়েট করার জন্য করেছেন। আমার সঙ্গে বিচারকও একমত পোষণ করেছেন।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোর্টের ড্রেস পরে তার বন্ধুকে হেলমেট দিয়ে উঠিয়ে কোর্টকে হিউমিলিয়েট করার জন্য প্রতীকী অর্থে তিনি (মাসুদ রানা) এটা করেছেন। বাস্তবেই তিনি যদি অভাবে পড়ে উবার চালাতেন তাহলে আমাদের কিছু বলার ছিল না। জুডিশিয়ারিকে ব্যঙ্গ করতে এমনটি করেছেন। এজন্য কোর্ট তাকে তিরস্কার করেছেন।’
জানতে চাইলে আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, ‘হ্যাঁ আদালত বলেছেন, মিস্টার মাসুদ রানা আপনি তো ভাইরাল হয়ে গেছেন।’
আপনি কি সত্যিকার অর্থেই রাইড শেয়ারিং করেছেন নাকি প্রতীকী অর্থে করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং আমি আগে করি নাই। কোর্ট খোলার জন্য প্রতীকী অর্থেই করেছি। কাজটাকে ভালোবেসে করেছি।’
এ পর্যন্ত সাত থেকে আটটি রাইড শেয়ার করেছেন বলেও জানান তিনি।
