প্রথম ধাপের নির্বাচনঃ ফাঁকা মাঠেও ৫৬ ইউনিয়নে হার আ.লীগের

নজর২৪ ডেস্ক- ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে বড় জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০৪টি ইউপির মধ্যে ১৪৮টিতেই বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থীরা।

 

পাঁচ বছর পর তৃণমূলের প্রশাসনিক প্রতিনিধি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপের ভোট হয় সোমবার। এদিন দেশের ১৩টি জেলার ৪১টি উপজেলার ২০৪টি ইউনিয়নের ভোটাররা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পান। অবশ্য করোনাভাইরাস ভোট উৎসবের আনন্দ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

 

২০৪ ইউপির মধ্যে ১৮৪টিতে ব্যালটের মাধ্যমে এবং ২০টিতে ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। ২০৪টি ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয় ১৭৬টিতে। কারণ ২৮টিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ১৪৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জয় পেয়েছেন। বিএনপি এই নির্বাচন বয়কট করেছে। ৪৯টিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির তিনজন, জাতীয় পার্টি- জেপির তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন করে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

 

মাঠপর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আসা ফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

জানা গেছে, নির্বাচনে ইভিএমে ভোট নেওয়া ১৮টি ইউপিতে গড়ে ৬৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। কাগজের ব্যালটে নির্বাচন হওয়ায় ১৫৮ ইউপিতে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সবমিলিয়ে গড়ে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

 

বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২০১৬ সালের তুলনায় ভোট কম পড়েছে। ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট পড়ার হার ছিল ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

 

ফলাফলে আরও দেখা গেছে, প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ২ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

অপরদিকে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঝালকাঠির সদর উপজেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নে। ইভিএমে অনুষ্ঠিত এ ইউনিয়ন পরিষদে ৪৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৭ হাজার ৪৫ ভোটের এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ জে এম মইনুদ্দিন ৭ হাজার ২৩১ ভোট পেয়েছে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

জানা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৬ ইউপিতে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে ২৪টিতে, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে ১০টি ও ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ২টিতে।

 

অপরদিকে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়েছে ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদে। ৪৯ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২টিতে এবং ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৭টিতে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ৬১ থেকে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

 

ফলাফলে দেখা গেছে, তিনটি ইউপিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের এস, এম কাইয়ুম খান, একই জেলার চরকালেখা ইউনিয়নের মিরাজুল ইসলাম ও বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নে সিদ্দিকুর রহমান।

 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় তিনটিতে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ খান জয়ী হয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে।

 

এ নির্বাচনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১২টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *