নজর২৪ ডেস্ক- প্রয়াত আমির শাহ আহমেদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হেফাজতের ডাক দেয়া হয়েছে সংগঠনের কমিটি থেকে বাদ পড়াদের এক আলোচনায়।
এই অনুষ্ঠানে নিজেও উপস্থিত ছিলেন আনাস ও তার ভাই ইউসুফ মাদানী। তারা হেফাজতের আরেকটি শাখা খুলবেন কি না, সে বিষয়ে কিছু না বললেও আলেমদের একতার ওপর জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) এর জীবন, কর্ম, অবদান ও চলমান সংকট নিরসনে উলাময়ে কেরামের করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় সাভার মাদ্রাসার মুফতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আনাস মাদানির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হেফাজতেকে সংঘবদ্ধ করতে হবে। আমরা যদি তাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাই তাহলে শফি হজুরের খু/নিদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই।’
তিনি বলেন, ‘হেফাজতকে হাইজ্যাক করে ভিন্ন কিছু করা যাবে না। এ ধরনের কাজ যারা করছে তারা ভুল পথে আছেন।’
আনাস মাদানী বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আলেম সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ নয়। তাই সবাইকে ঐকবদ্ধ হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নানা পর্যায় থেকে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এবং আলেমদেরকে আদর্শচ্যুত করার বহুবিদ ষড়যন্ত্র চলছে। এ পর্যায়ে আলেমরা যদি নীতি ও লক্ষ্যে অবিচল ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, তবে কোনো ষড়যন্ত্রই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষতি করতে পারবে না।’
এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউসুফ মাদানীও। তিনি হেফাজতের নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইসলামের কথা বলে তারা উল্টো কাজ করছেন। এ পথ থেকে তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘তারা (বাবুনগরী ও তার অনুসারীরা) যা করছেন, সেটা ইসলামের কাজ না। কারও পেছনে গীবত গাওয়াকে ইসলাম সমর্থন করে না।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেফাজতের সদর দপ্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় যে হাঙ্গামা হয়, তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আনাসই। বিক্ষোভকারীরা তাকে হেফাজতে ও মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলে তার বাবা আল্লামা শফীকে অবরুদ্ধ করেন।
হাঙ্গামার তৃতীয় দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান আল্লামা শফী। তবে তার আগেই আনাসকে সেই মাদ্রাসা ও হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমনকি বাবার জানাজাতেও যেতে পারেননি আনাস।
শফীর মৃত্যুর ঘটনায় তার শ্যালক মঈন উদ্দিন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আর সেই মামলায় ৪৩ জনকে আসামি করে প্রতিবেদনও দিয়েছে পিবিআিই। সেখানে তার মৃত্যুকে ‘অবহেলাজনিত নরহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
